বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজগুলোকে পাড়ি দিতে হয় উত্তাল সাগর। এ সময় বিশালাকার ঢেউয়ের আঘাতে ভারসাম্য হারিয়ে জাহাজের উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই জাহাজ, ক্রু এবং কার্গো জাহাজের ক্ষেত্রে পণ্য ও ক্রুজার শিপগুলোর ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
উত্তাল সাগরে জাহাজের ভারসাম্য ধরে রাখার জটিল এই সমস্যার সমাধান এনে দিয়েছে ব্যালাস্ট ওয়াটার। এই আধুনিক নকশাগত কৌশলের কারণে জাহাজ চলাচল আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ হয়েছে। তবে একই সঙ্গে জলজ বাস্তুসংস্থানের জন্যও তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি জাহাজ একটি বন্দরে পণ্য খালাস করে ফিরে আসার সময় তার ব্যালাস্ট ট্যাংকে পানি ভর্তি করে। এরপর যে বন্দর থেকে পণ্য বোঝাই করবে, সেখানে এসে সেই ব্যালাস্ট ওয়াটার ফেলে দেয়। পণ্য বোঝাই-খালাস, জ্বালানি পরিমাণ কম-বেশি হওয়া ইত্যাদি কারণে জাহাজের ওজনের তারতম্য অনুযায়ী ব্যালাস্ট ওয়াটারের লেভেল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই ব্যালাস্ট ওয়াটার জাহাজকে চারদিক থেকে ভারসাম্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া জাহাজের হালের ওপর থেকে চাপ কমানো, প্রপালশন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে ব্যালাস্ট ওয়াটার।
এবার আশা যাক জলজ বাস্তুসংস্থানগত ঝুঁকির বিষয়ে। কোনো একটি বন্দরে ব্যালাস্ট ট্যাংক ভর্তি করার সময় সেখানকার সামুদ্রিক জীব ও জীবাণু পানির সঙ্গে ট্যাংকে প্রবেশ করে। আবার ব্যালাস্ট ওয়াটার ডিসচার্জ করার সময় সেগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জলজ পরিবেশে গিয়ে পড়ে। এতে করে বাস্তুসংস্থান ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে যায়। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়েরও আশঙ্কা রয়েছে এতে। এ কারণে এখন ব্যালাস্ট ওয়াটার ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালে এ-সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অংশীজনের তরফ থেকে ব্যালাস্ট ওয়াটার ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের দাবিও জানানো হচ্ছে।