অক্টোবর/নভেম্বর থেকে মার্চ/এপ্রিল-সাধারণত এই সময়টায় গিনি উপসাগরে জলদস্যুতার ঘটনা বেড়ে যায়। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। জলদস্যুতা প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে নাইজেরিয়া এরই মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ফোর্সের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে গিনি উপসাগরে। এর ফলে সেখানে জলদস্যু আক্রমণের প্রবণতা কিছুটা কমেছে।
গিনি উপসাগরে জলদস্যুতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত মে মাসে বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিলের (বিমকো) উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছে গালফ অব গিনি ডিক্লারেশন অন সাপ্রেশন অব পাইরেসি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী অংশীজনের সংখ্যা বাড়ছে। এটি অবশ্যই বড় একটি অর্জন। কিন্তু এই অর্জনেই সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকলে চলবে না। বরং এই রুটে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য সামনের মৌসুমগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমকোর মেরিটাইম সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান জ্যাকব পি লারসেন এমনটাই মনে করছেন।
সমুদ্র নিরাপত্তায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে নাইজেরিয়া। গত জুনে নাইজেরিয়ার সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা নিমাসার অধীনে যাত্রা হয়েছে ডিপ ব্লু প্রজেক্টের। এই প্রকল্পের অধীনে দুটি স্পেশাল মিশন প্যাট্রোল বোট, তিনটি স্পেশাল মিশন হেলিকপ্টার, দুটি লাইট মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট ও চারটি আনম্যানড এয়ার ভেসেল যুক্ত হয়েছে সমুদ্র নজরদারিতে।
জলদস্যুতা বেড়ে যাওয়ার আসন্ন মৌসুমে গিনি উপসাগর উপকূলীয় দেশগুলো গৃহীত উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ফোর্সগুলোর তৎপরতা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়, সমুদ্র পরিবহন খাত এখন অধীর আগ্রহে সেদিকেই তাকিয়ে আছে।