‘ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টে অবদান রাখবে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ’

২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলো। কারণ সমুদ্রবন্দর হলো একটি দেশের অর্থনীতির বাতিঘর। বৈদেশিক বাণিজ্যের চাকা সচল রাখতে হলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করাটা অতি জরুরি। আর এই স্বাভাবিকতার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা। এর ব্যত্যয় ঘটলে বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বন্দরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা অপরিহার্য। প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকলে একটি চ্যানেলে সমুদ্রগামী জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না। বাংলাদেশের জন্য এই নাব্যতা ধরে রাখা বেশ কঠিন একটি কাজ। কারণ এ দেশের নদীগুলো প্রচুর পরিমাণে পলি বহন করে। আর এই পলি জমে নৌ-চ্যানেলের নাব্যতা কমে যাওয়া একটি নৈমিত্তিক ঘটনা।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণভোমরা হলো কর্ণফুলী নদী। এই নদীতেও প্রচুর পলি জমে, যা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। এছাড়া নদীর তলদেশে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতাও থাকতে পারে। এই অজানা প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ জয় করে চলেছে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে।

চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের মাধ্যমে সারা বছর জরিপ কার্যক্রম চালু রাখা হয়। এই জরিপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ব্যাথিমেট্রিক ডেটাশিটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। নদীর তলদেশে নিমজ্জিত রেক ও অন্যান্য বস্তু চিহ্নিত করে হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ।

শুধু হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ। বরং এই প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণ এবং কর্ণফুলীতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং ও প্রয়োজন অনুসারে ক্যাপিটাল ড্রেজিং পরিচালনার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে তারা।

আধুনিক সমুদ্র পরিবহন খাতে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট যুগে প্রবেশ করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ রাখা অপরিহার্য। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ কাজে যথেষ্ট পারদর্শিতা অর্জন করেছে।

সামনের দিনগুলোয় হাইড্রোগ্রাফি আমাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ মাতারবাড়ীতে যে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটিকে সাব-রিজিওনাল ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আমরা। সেই সম্ভাবনাও রয়েছে আমাদের। বিদেশি জাহাজগুলো চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যাথিমেট্রিক চার্টের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। সুতরাং বেশি ড্রাফটের জাহাজগুলো যেন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়, সেজন্য আমরা হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের ওপর জোর দিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here