লজিস্টিক খাতের উন্নয়নে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ

দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন। বেসরকারি খাতের জন্য লজিস্টিকস অবকাঠামো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক্ষেত্রে যথাযথ উন্নয়নে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ। লজিস্টিকস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কিং কমিটির (এলআইডিডব্লিউসি) এক বৈঠকে এমন মন্তব্য করেন বক্তারা।
শনিবার (১৩ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) যৌথ উদ্যোগে গঠিত এলআইডিডব্লিউসির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও বিল্ডের চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ জোবাইদা নাসরীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১ আনিসুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের জ্যেষ্ঠ বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ লুতফুল্লাহসহ ১৬টি সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি।
তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, বেসরকারি খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লজিস্টিকস অবকাঠামো। বর্তমানে দেশের লজিস্টিকস ব্যয় অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে লজিস্টিকসের জন্য অ্যাডভোকেসি করা জরুরি। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
আবুল কাসেম খান বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো লজিস্টিকস পরিবেশ উন্নয়নে তাদের জিডিপির ৯-১০ শতাংশ বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থার প্রধান সমস্যাগুলো নিরসন করতে গঠনগত সংস্কার আনতে হবে। অবকাঠামো খাতকে প্রাধান্যশীল খাতের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে ঘোষণার দাবিও করেন তিনি।
ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান লজিস্টিকস খাতের সমস্যা নিরসনে কিছু সুনির্দিষ্ট সমাধানের ওপর জোর দেন, যার মধ্যে রয়েছে লজিস্টিকসকে শিল্পনীতিতে একটি খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা; শিল্পায়নের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে ভিন্ন ভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থা; বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও রেলপথকে বেসরকারীকরণ; শিল্পনীতি প্রস্তুতে বিশেষ প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট বিবেচনায় নেয়া।
সিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সড়কপথের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমাতে আমাদের জল যোগাযোগের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। জল যোগাযোগের পর বেশি প্রাধান্য দিতে হবে রেলপথের ওপর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট কমাতে সড়কটিকে আট লেনে রূপান্তর করতে হবে।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) পরিচালক ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, লজিস্টিকস ব্যয় কমাতে হলে আমাদের বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। যেহেতু বেসরকারি অফ-ডক যথেষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ, সুতরাং আমদানি পণ্যের হ্যান্ডলিং অফ-ডকের কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে। আইসিডি ও প্রাইভেট অফ-ডককে বিনিয়োগ প্রণোদনা দেয়া প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া ট্রান্সপোর্ট বিভাগের সিনিয়র পরিবহন বিশেষজ্ঞ তাতিয়ানা পেরাল্টা কুইরোস বলেন, বাণিজ্য প্রতিযোগিতা উন্নয়ন, রফতানি প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে লজিস্টিকস পরিস্থিতির উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় সমন্বিত লজিস্টিকস মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, বন্দরের পণ্য ওঠানামার সময় হ্রাস এবং মহাসড়কের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা দেশের রফতানি ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।
অ্যামচেমের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ লজিস্টিকস ব্যয় কমানোর পাশাপাশি তিনি গ্রিন লজিস্টিকসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, দেশের ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের মধ্যে ৯৮ শতাংশই প্রযুক্তির দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here