জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি খাতে কার্বন নিঃসরণ বন্ধ করতে চাইছে বিশ্ব। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে উন্নত দেশগুলো। এ উদ্যোগে শামিল হয়েছে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোও। এরই অংশ হিসেবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি নিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। যদিও এ বিনিয়োগে মূল ক্ষেত্রগুলো অবহেলিত থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের (পিডব্লিউসি) গবেষণা অনুসারে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিনিয়োগের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ বিনিয়োগের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৪৮০ কোটি ডলার। অর্থাৎ বিনিয়োগ বেড়েছে ২১০ শতাংশ।
‘স্টেট অব ক্লাইমেট ২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদনে পিডব্লিউসি জানিয়েছে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোর ১৪ শতাংশ বিনিয়োগ এখন জলবায়ু প্রযুক্তিতে যায়। তবে এ বিনিয়োগের মধ্যে মূল জলবায়ু প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো খুব বেশি পাচ্ছে না। জলবায়ুবিষয়ক পাঁচটি প্রযুক্তিকে মূল প্রযুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে পিডব্লিউসি। এগুলো হলো- সৌরশক্তি, বায়ুবিদ্যুৎ, খাদ্যবর্জ্য প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন উৎপাদন ও কম কার্বন নিঃসরণযুক্ত গ্যাস প্রোটিন। এ পাঁচ খাত ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে জলবায়ু প্রযুক্তিতে মোট বিনিয়োগের মাত্র ২৫ শতাংশ পেয়েছে। যদিও এ প্রযুক্তিগুলোই ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশের বেশি অবদান রাখবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু প্রযুক্তি তহবিলের সিংহভাগ (প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার) গেছে পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোয়। এদের মধ্যে রয়েছে ই-স্কুটার, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও উড়ুক্কু ট্যাক্সির মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে জলবায়ু প্রযুক্তি চুক্তির গড় আকার প্রায় চারগুণ বেড়ে ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছর আগেও তা ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ সময়ে জলবায়ু প্রযুক্তিতে সক্রিয় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। গত বছরের প্রথমার্ধে এ সংখ্যা ৯০০-এর কম ছিল।