কৃষি পণ্য রপ্তানিতে ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারেও কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছে। এরই মধ্যে জয় করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজার।

বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারির প্রভাবের মধ্যেও গত (২০২০-২১) অর্থবছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে কৃষিপণ্য। চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) আয় করেছে প্রায় ৫৬ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় তা দাঁড়ায় চার হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে ১১০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করা সম্ভব হবে। এ নিয়ে দেশের উদ্যোক্তা ও সরকারের নীতি-নির্ধারকরা আরো বড় স্বপ্ন দেখছেন। তাঁরা জানান, দেশের কৃষিপণ্যের উন্নয়নে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডস সফর করেছে সরকারি-বেসরকারি একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় কৃষিপণ্য নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সুপারশপ সেইন্সবারি ও টেসকো। এ ছাড়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশ নেদারল্যান্ডসের একটি কারিগরি দল সহায়তা দিতে আগামী মার্চ মাসে আসছে বাংলাদেশে।

রপ্তানিকারকরা মনে করেন অবকাঠামোগত সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে কৃষিপণ্যে রপ্তানি দিগুণ করা সম্ভব। দেশের কৃষিপণ্যের বিশ্ববাজারের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে সরকার নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সম্ভাবনা যাচাই ও জ্ঞান অর্জনে সরকারি-বেসরকারি একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য সফর করেছে। সেখান থেকে ইতিবাচক সারা মিলেছে। এ প্রেক্ষাপটে আগামী বছর মার্চ মাসে ডেনমার্কের একটি কারিগরি প্রতিনিধিদল আসছে বাংলাদেশে। এই প্রতিনিধিদল দেশের কৃষি আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি সহায়তা, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বিপণন বাড়াতে সহায়তা করবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here