তিন-চার বছরেই রটারডামে হাইড্রোজেন রপ্তানি শুরু করতে পারে অস্ট্রেলিয়া

টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎস হিসেবে হাইড্রোজেন ব্যবহারের দাবি উঠেছে বেশ জোরেশোরে। আর এই দাবির পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও উঠেছে যুক্তিসঙ্গতভাবে। ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী এই হাইড্রোজেনের সরবরাহ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, প্রাসঙ্গিক সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতেই যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও রটারডাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি প্রাক-সম্ভাব্যতা গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে হাইড্রোজেন সরবরাহ নিশ্চিতকরণে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। চলতি দশকেই এমনকি হয়তো তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া থেকে রটারডামে হাইড্রোজেনের প্রথম রপ্তানি চালান পৌঁছতে দেখা যাবে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে রটারডাম বন্দরে হাইড্রোজেন সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে গত মার্চে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সরকার ও রটারডাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রাক-সম্ভাব্যতা গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদের সুবাদে ইউরোপে পরিচ্ছন্ন হাইড্রোজেন রপ্তানির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া। এখানকার হাইড্রোজেন দিয়ে ২০৫০ সালে রটারডামের মোট চাহিদার ১০ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করা যাবে। আলোচ্য সময়ে রটারডামের হাইড্রোজেন চাহিদা প্রতি বছর ১ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০৫০ সালের মধ্যে শিপিং খাতকে কার্বন নিরপেক্ষ করে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই সেই সময়ের পর পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেনের চাহিদা বেড়ে যাবে। ২০৫০ সালে রটারডাম বন্দরের হাইড্রোজেনের যে চাহিদা তৈরি হবে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া তার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে কিনা, গত মার্চে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা সেটাই যাচাই করে দেখছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here