ওমিক্রন প্রাদুর্ভাবে চলতি বছরের পূর্বাভাস পূরণ নিয়ে শঙ্কায় ডব্লিউটিও

২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকেই বিশ্বজুড়ে পণ্য বাণিজ্যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। তুমুল ভোক্তা চাহিদা বিভিন্ন দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় টানা চার প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছিল পণ্য বাণিজ্য। তবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ বাণিজ্য সংকুচিত হয়েছে। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। বিশ্বজুড়ে ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ২০২১ সালের পূর্বাভাস পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এ তথ্য জানিয়েছে।

জুলাই-সেপ্টেম্বরে পণ্য বাণিজ্যে সংকোচনের পেছনে সরবরাহ চেইনে প্রতিবন্ধকতা, উৎপাদনে ঘাটতি ও কোভিডের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাবকে দায়ী করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য সংস্থাটি।

তৃতীয় প্রান্তিকে পতন সত্ত্বেও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরের প্রথম নয় মাসে বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এ সময়ে বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির এ হার ডব্লিউটিওর পূর্বাভাস পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর জাতিসংঘের বাণিজ্য সংস্থাটি নয় মাসে বিশ্বজুড়ে পণ্য বাণিজ্য ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।

এক বিবৃতিতে ডব্লিউটিও জানিয়েছে, চতুর্থ প্রান্তিকে পণ্য বাণিজ্য আবারো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরলে ২০২১ সালে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দেওয়া রয়েছে, তা পূরণ হতে পারে। না হলে পূর্বাভাস অনুযায়ী বাণিজ্যের পরিমাণে ঘাটতি থেকে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে কনটেইনার জট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো পণ্য বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রবণতার আশা দেখাচ্ছিল। যদিও ডব্লিউটিওর গুডস ট্রেড ব্যারোমিটার চলতি বছরের শেষ মাসগুলোয় বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে নভেল করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ঝুঁকির ভারসাম্যকে নেতিবাচক দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফলে চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পণ্য বাণিজ্য আবারও সংকোচনের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিমাণের দিক থেকে কমলেও অবশ্য তৃতীয় প্রান্তিকে মূল্যমানের দিক থেকে পণ্য বাণিজ্য বেড়েছে। এক্ষেত্রে অবদান রেখেছে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। তৃতীয় প্রান্তিকে ডলারের হিসাবে বিশ্বজুড়ে পণ্য বাণিজ্য ২৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রবৃদ্ধির এ হার দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৪৬ শতাংশের কম হলেও প্রথম প্রান্তিকের ১৫ শতাংশের চেয়ে বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here