ভারতের শিপইয়ার্ডে আসা ভুয়া পরিচয়ের তিনটি জাহাজ বাজেয়াপ্ত

ভারতের গুজরাটের আলাং শিপইয়ার্ডে মিথ্যা পরিচয়ে নোঙ্গর করা তিনটি জাহাজকে আটক করেছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। বর্তমানে ভাওনগরের বহির্নোঙ্গরে অবস্থান করা জাহাজগুলোকে বাজেয়াপ্ত ঘোষণার পরিকল্পনা করছেন তারা। তবে এরপর জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে জাহাজগুলো জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ডিমোলিশনের জন্য আলাং শিপইয়ার্ডে পৌঁছায়।

তিন বছর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি কঠোর আইন জারি করে, যেখানে ইইউর দেশগুলোয় মালিকানাধীন অথবা সেখানে নিবন্ধিত জাহাজগুলোর ডিমোলিশনের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। এর মধ্যে একটি শর্ত হলো, ৫০০ গ্রস টনের বেশি ধারণক্ষমতার জাহাজগুলো ভাঙার ক্ষেত্রে রিসাইক্লিং সাইটের অবশ্যই ইইউর নিবন্ধন থাকতে হবে।

বর্তমানে এই নিবন্ধন রয়েছে তুরস্কের আলিয়াগার বিভিন্ন শিপইয়ার্ড ও ইউরোপের কিছু বিশেষায়িত ইয়ার্ডে। সম্প্রতি স্কটল্যান্ডে ইইউর নিবন্ধন পাওয়া একটি ইয়ার্ডের কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভারতের কোনো শিপইয়ার্ড এই নিবন্ধন পায়নি।

ভারতের কাস্টমস বিভাগ ও রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (ডিআরআই) কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি তারা ডিমোলিশনের জন্য আসা জাহাজগুলো পরীক্ষা করে তিনটি জাহাজের ক্ষেত্রে জাল নথি পেয়েছেন। এর মধ্যে কোরাল ও সি গোল্ডেন নামের দুটি জাহাজ ৫ ডিসেম্বর বহির্নোঙ্গরে পৌঁছায়। দুটি জাহাজই ভুয়া আইএমও নোটিফিকেশন নম্বর ব্যবহার করেছে।

তিনদিন পর হ্যারিয়েট নামের আরেকটি জাহাজ বহির্নোঙ্গরে পৌঁছায়, যেটি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে নথিপত্র পর্যালোচনার সময় উঠে এসেছে। কর্মকর্তারা বলেন, তিনটি জাহাজই জাল নথিপত্র ব্যবহার করেছে এবং এজন্য সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

আলাংয়ের কার্যক্রম তদারকি করা শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জাহাজ ভাঙার নিলাম যখন অনুষ্ঠিত হয়, তখন জাহাজের নথিপত্র পরীক্ষা করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি, কোনো রিসাইক্লারই জেনেশুনে ভুয়া নথিপত্রের জাহাজ কিনবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here