২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়াকে সরিয়ে জাহাজ নির্মাণ কার্যাদেশে প্রথম স্থান দখল করেছে চীন। নতুন বছরের শুরুতেই এ খাতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখায় একধাপ এগিয়ে গেল তারা। এছাড়া যে সেগমেন্টে দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে চীন, সেই এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণে ব্যবধান কমানোর বড় সুযোগ পেল তারা।
চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং করপোরেশনের সাবসিডিয়ারি হুডং ঝংহুয়া শিপবিল্ডিং সম্প্রতি জাপানের মিতসুই ওএসকে লিমিটেডের (এমওএল) সঙ্গে ১১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের একটি চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, চীনা জাহাজনির্মাতা কোম্পানিটি এমওএলের জন্য ছয়টি বড় আকারের এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণ করবে। এই ক্যারিয়ারগুলো আবার এমওএলের কাছ থেকে ভাড়া নেবে চীনের তৃতীয় বৃহত্তম জাতীয় তেল কোম্পানি সিএনওওসির সাবসিডিয়ারি সিএনওওসি গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার গ্রুপ।
দুটি দিক থেকে এই চুক্তি চীনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ববহ। প্রথমত, এলএনজি নির্মাণে এটি চীনের জন্য সবচেয়ে বড় একক কার্যাদেশ। আর দ্বিতীয়ত, গত দশ বছরে এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণে দেশটির জন্য এটাই সবচেয়ে বড় অংকের চুক্তি।
যে ছয়টি জাহাজ নির্মাণের জন্য চুক্তি হয়েছে, সেগুলো হবে চ্যাংহেং সিরিজের এলএনজি ক্যারিয়ার। হুডং ঝংহুয়া সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে এই সিরিজ ডেভেলপ করেছে। এগুলোর প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার। লাইটার ওভারঅল ওয়েট প্রযুক্তির মতো নতুন কিছু প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে চ্যাংহেং সিরিজের ক্যারিয়ারগুলোয়।
এদিকে হুডং ঝংহুয়া সম্প্রতি চায়না শিপবিল্ডিং করপোরেশনের সাবসিডিয়ারি চায়না শিপবিল্ডিং লিজিংয়ের সঙ্গেও একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, চায়না শিপবিল্ডিং লিজিংকে নতুন একটি চ্যাংহেং সিরিজের এলএনজি ক্যারিয়ার সরবরাহ করবে হুডং ঝংহুয়া। এটি হবে চায়না শিপবিল্ডিং লিজিংয়ের জন্য হুডং ঝংহুয়ার তৈরি চতুর্থ ক্যারিয়ার।
সম্প্রতি ক্লার্কসন্সের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালে মোট সংখ্যার (কম্পেনসেটেড গ্রস টন বা সিজিটি) ভিত্তিতে জাহাজ নির্মাণের বার্ষিক কার্যাদেশে দক্ষিণ কোরিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দেশটি মোট ২ কোটি ২৮ লাখ সিজিটি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে, যা আলোচ্য সময়ে মোট বৈশ্বিক কার্যাদেশের (৪ কোটি ৫৭ লাখ সিজিটি) প্রায় ৫০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া কার্যাদেশ পেয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ সিজিটির, যা বৈশ্বিক কার্যাদেশের প্রায় ৩৮ শতাংশ।
২০২১ সালে কনটেইনারবাহী জাহাজ নির্মাণে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল চীনের। ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বেড়ে যাওয়া এক্ষেত্রে তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। অন্যদিকে বেশি মুনাফার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া, বিশেষ করে দেশটির শীর্ষ তিন জাহাজনির্মাতা কোম্পানি গত বছর এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণের দিকে বেশি নজর দিয়েছে। ফলে এই সেগমেন্টে দেশটির আধিপত্যও ছিল চীনের চেয়ে বেশি। গত বছর মোট ৩৭টি এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, যার মধ্যে ১৬টি ছিল কাতার এনার্জির। ১৫টি কার্যাদেশ ছিল মালয়েশীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাসের।