বন্দরে জটের কারণে পণ্য জাহাজীকরণের সময় বেড়ে যাওয়া কিংবা সাপ্লাই চেইনের স্থবিরতার কারণে বাজারে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ঘাটতির বিষয়ে কথা হচ্ছে অনেক। কিন্তু এগুলোর পাশাপাশি যে বিষয়টি সমান গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো, এই বিলম্ব বা স্থবিরতার কারণে রিটেইলারদের ব্যয় বেড়ে যাওয়া, যার ফলশ্রুতিতে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামও বেড়ে গেছে।
লজিস্টিকস সার্ভিস প্রোভাইডার প্রজেক্ট ফোরটি ফোরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থবিরতার কারণে ২০২১ সালে রিটেইলারদের পরিবহন খরচ তো বেড়েছেই, এর পাশাপাশি পণ্যজটের কারণে ইন্টারেস্ট এক্সপেন্স হিসেবে বাড়তি প্রায় ৩২ কোটি ১০ লাখ ডলার গুনতে হয়েছে তাদের।
প্রজেক্ট ফোরটি ফোরের পর্যালোচনা বলছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ২৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পণ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রেেবশ করতে লস অ্যাঞ্জেলেস ও লং বিচ পোর্টের বহির্নোঙ্গরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০২১ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৫ লাখ ৪০ হাজার ২৫৫ টিইইউ কনটেইনার পণ্যকে বন্দরের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। গড়ে ৩৭৭টি কনটেইনার জাহাজকে নির্দিষ্ট সময়ে বার্থিং সুবিধা দিতে পারেনি বন্দরগুলো।
সম্প্রতি এইচএসবিসির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতি টিইইউ কার্গো পরিবহনের জন্য গড়ে ৪০ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছে রিটেইলারদের। এর সঙ্গে কস্ট অব ফাইন্যান্সিং হিসেবে ৩ দশমিক ২ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে তাদের। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রজেক্ট ফোরটি ফোর জানিয়েছে, পণ্যজটের কারণে রিটেইলারদের প্রতি মাসে টিইইউপ্রতি ১০৬ ডলার করে বাড়তি গুনতে হয়েছে।