কাতার ও অস্ট্রেলিয়াকে সরিয়ে এলএনজি রপ্তানিতে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। সদ্যসমাপ্ত ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এই নতুন উচ্চতায় উঠে যায় দেশটি। ইউরোপে এলএনজি সরবরাহ বেড়ে যাওয়া তাদের এই উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরও শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশের মুকুট ধরে রাখতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বছর চীনসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশ এবং ইউরোপের বড় অর্থনীতিগুলো ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়ে। এর প্রভাবে এসব দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শিল্পোৎপাদনে ধস নামে। এসব অঞ্চলে জ্বালানি সংকট যখন চরমে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে এলএনজির সরবরাহ ছিল ভরপুর। আগামী বছরগুলোয় এই ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৫ সালের পর থেকে প্রতি বছরই বিশ্বজুড়ে এলএনজির চাহিদা রেকর্ড পরিমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে চীন ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে জ্বালানিটির চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক এলএনজি চাহিদার একটি বড় অংশই পূরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাত বছর ধরে দেশটির এলএনজি রপ্তানি অব্যাহতভাবে রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির এলএনজি রপ্তানি দৈনিক ১ হাজার ১৫০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছতে পারে, যা বৈশ্বিক এলএনজি চাহিদার ২২ শতাংশের সমপরিমাণ। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রক্ষেপণ সত্য হলে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশের তকমা ধরে রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন ১০০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসই যথেষ্ট। সে হিসাবে দেশটির স্থানীয় ব্যবহারের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ রপ্তানির জন্য উদ্বৃত্ত থেকে যায়। ২০২৫ সাল পর্যন্ত শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান ধরে রাখার সক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ সময়ের মধ্যে কাতারের দক্ষিণাঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় সম্প্রসারণ কার্যক্রম শেষ হবে। সে সময়ে তারাও এলএনজি রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি কোম্পানিগুলো যদি রপ্তানির জন্য নতুন নতুন প্লান্ট তৈরি করে, সেক্ষেত্রে কাতার ঘুরে দাঁড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলা তাদের জন্য কঠিন হবে।