চলতি মাসের শুরু থেকে আটকে রাখা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পতাকাবাহী জাহাজ রওয়াবিকে ফেরত দিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রতি আহবান জানিয়েছিল জাতিসংঘ। তবে জাতিসংঘের সেই আহবানে সাড়া দেয়নি হুতিরা। বরং আটকে রাখা জাহাজটি ফেরত না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ কথা জানিয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি লোহিত সাগর থেকে ১১ জন ক্রুসহ রওয়াবি নামের জাহাজটিকে আটক করে হুতি বিদ্রোহীরা। এরপর জাহাজটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন হোদাইদা বন্দরে আটকে রাখে তারা। জাহাজটিতে করে সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। পরবর্তীতে একটি ভিডিও প্রকাশ তারা, যেখানে জাহাজটিতে সামরিক সরঞ্জাম দেখা যায়। তবে ইউএই জানিয়েছে, কোনো সামরিক সরঞ্জাম নয়, বরং একটি ফিল্ড হসপিটালের জন্য ওষুধ সামগ্রী পরিবহন করা হচ্ছিল জাহাজটিতে। আমিরাত আরও জানিয়েছে, জাহাজটি ভাড়া করেছিল সৌদি আরবের একটি কোম্পানি এবং সেটি আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে যাচ্ছিল।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সরব হয় জাতিসংঘ। অবিলম্বে জাহাজটি ও এর ক্রুদের ছেড়ে দিতে হুতি বিদ্রোহীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।
নিরাপত্তা পরিষদের এমন আহবানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। জাতিসংঘের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী খুনিদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলটির একজন শীর্ষ নেতা হুসেইন আল-আজি। তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই জাহাজটিতে শিশুদের খেলনা ছিল না। এতে সামরিক সরঞ্জাম ছিল। ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের কাজে জাহাজটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেটি বেআইনিভাবে ইয়েমেনের জলসীমায় অবস্থান করছিল।