কচু পুষ্টিকর সবজি হলেও চাষাবাদ হয় কম। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের ব্যবধানে বড় সম্ভাবনা জাগিয়েছেন কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার কৃষকরা। এ অঞ্চলের কচু ও লতি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশে। প্রবাসীদের পাশাপাশি বিদেশিদের কাছে দিন দিন কচুর কদর বাড়ছে।
বরুড়া উপজেলায় কম খরচে বেশি লাভ এবং দীর্ঘদিন ফলন পাওয়ার কারণে কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে কচু আবাদ করছেন। এরই মধ্যে কচুর উপজেলা হিসেবে ‘বিখ্যাত’ হতে শুরু করেছে বরুড়া। কচু আর লতিকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও। এ অঞ্চলে কৃষকদের সাফল্য দেখে অন্যান্য জেলা থেকেও চারা সংগ্রহ করতে আসছেন কৃষকরা। গত মৌসুমে বরুড়া থেকে প্রায় এক লাখ কচুর চারা গেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। স্থানীয় কৃষি বিভাগও কচুর উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানা গেছে, বরুড়ায় উৎপাদিত পানি কচু ও লতি বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে, দুবাই, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের প্রায় সব দেশে যাচ্ছে। আগে এই লতি ও কচু প্রবাসীদের মাধ্যমে গেলেও গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে রপ্তানি হচ্ছে।
স্থানীয় পাইকার বা ব্যাপারীরা প্রতিদিনই কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কচু ও লতি সংগ্রহ করছেন এবং রপ্তানিকারকদের দিচ্ছেন। বাড়িতে নারীরা এসব লতি ও কচু পরিষ্কার করে আঁটি বাঁধেন। এতে অন্তত এক হাজার নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে।