সমুদ্র পরিবহন খাতে প্রতি টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণের বিপরীতে ২০০ ডলার করে কর আরোপের প্রস্তাব করেছে গেটিং টু জিরো কোয়ালিশন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মেরিটাইম কোম্পানি ও শিপিং খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে কাজ করা এনজিওগুলোর এই জোট তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই প্রস্তাব দিয়েছে।
সমুদ্র পরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে জ্বালানি রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অনেক কোম্পানিই এতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। গেটিং টু জিরো কোয়ালিশন বলছে, প্রথাগত এইচএফও ও ভিএলএসএফও জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে খরচের এই যে পার্থক্য, তা কমিয়ে এনে ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কার্বন কর আরোপ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রদান- একসঙ্গে দুটোই দরকার।
গেটিং টু জিরো কোয়ালিশন বলছে, তারা গবেষণা করে যে কার্বন কর কাঠামো তৈরি করেছে, তা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরে প্রণোদনার কাজে ব্যয়ের জন্য বড় অংকের তহবিল গড়ে তুলবে। ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর এই তহবিলে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি ডলার যোগ হবে। উচ্চ মূল্যের সবুজ জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই তহবিল খুব কাজে আসবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি লয়েড’স রেজিস্টার ও ইউএমএএস তাদের পর্যালোচনায় জানিয়েছে, ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত সবুজ জ্বালানির খরচ প্রথাগত জ্বালানি ব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণ থাকবে। এই পার্থক্য দূর করতে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এই পর্যালোচনার সঙ্গে সহমত পোষণ করে গেটিং টু জিরো কোয়ালিশন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে নীতি নির্ধারকদের খরচের ব্যবধান কমানোর জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহবান জানিয়েছে।