
পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল দ্রুত ও সহজ করতে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের ভারতীয় অংশে শিগগিরই নতুন একটি গেট, তথা ফটক চালু করা হবে। এ ছাড়া উভয় দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়লে অন্যান্য স্থলবন্দরেও ভারতীয় অংশে উন্নয়নকাজ করা হবে। আগামী মাসে (ফেব্রুয়ারি) সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী এসব কথা বলেন।
এ ছাড়া দুই দেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) নিয়ে সিইও’স ফোরাম চালুর বিষয়েও আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এই ফোরাম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যাগুলো দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকার মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিক্রম দোরাইস্বামী জানান, ভারত সরকার দুই দেশের বাণিজ্য-ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে আগ্রহী। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, অটোমোবাইল বা গাড়িশিল্প ও পোশাক খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নত করতে চায় তাঁর দেশ। উভয় দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন মাত্রা দিতে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এফবিসিসিআইর প্রধান লক্ষ্য। এ খাতের উন্নয়নে সরকারের কাছে ১২ বছরব্যাপী পরিকল্পনা জমা দেওয়ার ব্যাপারে কাজ করছে তাঁর সংগঠন।
গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রথমবারের মতো ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য-সম্ভাবনার বিষয়ে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে সুতা ও তুলার বড় জোগানদাতা হতে পারে ভারত।
বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ভালো করছে। তাই বাংলাদেশে অন্যান্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগও লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দরগুলোর ভারতীয় অংশের অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়নের আহ্বান জানান তিনি।