গিনি উপসাগরে আরও দুই বছর টহল চালু রাখবে ইইউ

গিনি উপসাগরে টহলরত ডেনিশ ফ্রিগেট ও ফরাসি প্যাট্রল বোট (ফাইল ছবি)

আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় গিনি উপসাগরে জলদস্যুতার ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে বিচ্ছিন্ন দুই-একটি ঘটনার কারণে এই রুটটি এখনও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় এই অঞ্চলে কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

গত দুই বছর ধরে কো-অর্ডিনেটেড মেরিটাইম প্রেজেন্সেস (সিএমপি) পাইলট প্রোগ্রামের অধীনে ইইউ সদস্য দেশগুলো গিনি উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছিল। এই প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনার পর ইইউ মনে করছে, উপসাগরটিতে তাদের উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে এখনও। কারণ সেখানে জলদস্যুতার মতো অপতৎপরতার ঝুঁকি এখনও শেষ হয়ে যায়নি। জোটটি সিএমপি প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে এবং ডেনিশ, ফরাসি, ইতালীয়, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ যুদ্ধজাহাজকে গিনি উপসাগরে মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকার জলসীমায় চার মাস টহল দেবে ডেনমার্কের যুদ্ধজাহাজ। এরপর সাড়ে সাত মাস টহল দেবে স্পেন। এছাড়া ক্রমান্বয়ে ফ্রান্স ১১ মাস, ইতালি আট মাস ও পর্তুগালের যুদ্ধজাহাজ সাড়ে তিনমাস টহল পরিচালনা করবে সেখানে। এর মাধ্যমে আগামী দুই বছর গিনি উসাগরে অন্তত একটি যুদ্ধজাহাজ দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় ইইউ।

আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরোর (আইএমবি) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রে জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা ১৯৯৪ সালের পর সর্বনিম্নে নেমেছে। এই উত্তরণে বড় ভূমিকা রয়েছে গিনি উপসাগরে দুষ্কৃতিকারীদের উৎপাত কমে যাওয়ার। অক্টোবর/নভেম্বর থেকে মার্চ/এপ্রিল- সাধারণত বছরের এই সময়টায় গিনি উপসাগরে জলদস্যুতার ঘটনা বেড়ে যায়। তবে জলদস্যুতা প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন কর্মসূচি ও অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ফোর্সের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কারণে গত বছর সেখানে জলদস্যুদের আক্রমণের প্রবণতা কিছুটা কমেছিল।

গিনি উপসাগরে জলদস্যুতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত মে মাসে বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিলের (বিমকো) উদ্যোগে গ্রহণ করা হয় গালফ অব গিনি ডিক্লারেশন অন সাপ্রেশন অব পাইরেসি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী অংশীজনের সংখ্যা বাড়ছে।

সমুদ্র নিরাপত্তায় বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে নাইজেরিয়া। গত জুনে নাইজেরিয়ার সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা নিমাসার অধীনে যাত্রা হয়েছে ডিপ ব্লু প্রজেক্টের। এই প্রকল্পের অধীনে দুটি স্পেশাল মিশন প্যাট্রল বোট, তিনটি স্পেশাল মিশন হেলিকপ্টার, দুটি লাইট মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট ও চারটি আনম্যানড এয়ার ভেসেল যুক্ত হয়েছে সমুদ্র নজরদারিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here