গভীর সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় এখন পর্যন্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় বিস্তর ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এই নেতৃত্ব ধরে রাখতে দেশটি অফশোর ফ্লোটিং উইন্ড প্রকল্প সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার সম্প্রতি এ খাতের ১১টি প্রকল্পে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে।
সাগরের কিছু অঞ্চল রয়েছে, যেখানে বাতাসের গতিবেগ অনেক বেশি থাকে। ফলে এসব অঞ্চলে ভাসমান বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণও বেশি হবে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই মূলত এই বড় অংকের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। একই সঙ্গে সরকার আশা করছে, সমুদ্রের এইসব অঞ্চলে টার্বাইন স্থাপনে যে প্রযুক্তিগত গবেষণা ও উন্নয়নের প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে সহায়তা করতে বেসরকারি খাতও এগিয়ে আসবে।
নতুন এই ১১টি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো উইন্ড ফার্মগুলোকে সাগরের আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া, ভাসমান টার্বাইনগুলোকে সাগরতলের সঙ্গে বেঁধে রাখা, গভীর সাগরে ফাউন্ডেশন সেটআপের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আন্ডার-সি ক্যাবল স্থাপনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা ইত্যাদি বিষয়ে সমাধান খুঁজে বের করা। মোট কথা, প্রথাগত উইন্ড ফার্মগুলোর তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উপায় খুঁজছে যুক্তরাজ্য।
উল্লেখ্য, পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদন প্রচেষ্টায় গতি আনতে ‘টেন পয়েন্ট প্ল্যান’ প্রণয়ন করেছে ব্রিটিশ সরকার। আর এই পরিকল্পনার অধীনে ২০৩০ সাল নাগাদ গভীর সাগর ভাসমান বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ১ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মোট বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ দশমিক ৪ গিগাওয়াট। এর মধ্যে ১৪ গিগাওয়াট হলো অনশোর ক্যাপাসিটি। আর বাকি ১০ দশমিক ৪ গিগাওয়াট অফশোর ক্যাপাসিটি। গভীর সাগর বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে দেশটি। তবে এসব প্রকল্পে এতদিন বটম-ফিক্সড টার্বাইনই বেশি ব্যবহার করেছে তারা।