সাপ্লাই চেইনের স্থবিরতায় প্রবৃদ্ধি হারিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি: আইএমএফ

২০২২ সালে ৪.৪% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস বন্দরে বার্থিংয়ের জন্য অপেক্ষমাণ জাহাজের সারি (ফাইল ছবি)

২০২১ সালে বিশ্ববাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সাপ্লাই চেইনের স্থবিরতা তার অন্যতম। নভেল করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি যখন মাত্রই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই সাপ্লাই চেইনের এই ধস। এর ফলে থমকে গেছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি।

সরবরাহের শৃঙ্খলের স্থবিরতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা ক্ষত তৈরি হয়েছে, তার একটি খতিয়ান সম্প্রতি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলছে, পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় গত বছর আনুমানিক দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। এছাড়া এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশীয় পয়েন্ট।

সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছে, সাপ্লাই চেইনের এই সংকটের মূল কারণ কোভিড-১৯ মহামারি। এর সঙ্গে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে আকাশচুম্বী ভোক্তা চাহিদা, বন্দরগুলোয় জট, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন সক্ষমতার ঘাটতি ইত্যাদি।

বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে ভোগ্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। করোনার প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে সেখানে ভোক্তা চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ফলে খুচরা আমদানিতেও হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এই চাপ মার্কিন বন্দরগুলো সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যজট ও সরবরাহ ঘাটতির সমস্যা দীর্ঘায়িত হয়েছে।

আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে, চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্য ২০২২ সালে কিছুটা কমবে। ফলে এ বছর সাপ্লাই চেইন পরিস্থিতিতে খানিকটা উন্নতি দেখা যাবে। তবে তারপরও বৈশ্বিক অর্থনীতি পুরোপুরি সংকটমুক্ত হবে না। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বৈশ্বিক জিডিপির প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০২১ সালে যা ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও কমে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করছে আইএমএফ।

আইএমএফের পূর্বাভাসে বৈশ্বিক জিডিপির এই নিম্নমুখিতার বড় কারণ বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমে যাওয়া। অর্থনৈতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত অক্টোবরে দেওয়া আইএমএফের পূর্বাভাসের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন ও কানাডার প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়েছে আইএমএফ। এছাড়া ইউরো অঞ্চলের পূর্বাভাস দশমিক ৪ ও যুক্তরাজ্যের পূর্বাভাস দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে।

আইএমএফ বলছে, স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকবে। চলতি বছর উন্নত অর্থনীতিগুলোয় গড় মূল্যস্ফীতি দেখা যেতে পারে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আর উদীয়মান অর্থনীতিগুলোয় এ হার থাকতে পারে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here