নতুন বছরের শুরুতেই জাহাজ নির্মাণের বড় কার্যাদেশ পেল চীন
চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং করপোরেশনের সাবসিডিয়ারি হুডং ঝংহুয়া শিপবিল্ডিং সম্প্রতি জাপানের মিৎসুই ওএসকে লিমিটেডের (এমওএল) সঙ্গে ১১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের একটি চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, চীনা জাহাজ নির্মাতা কোম্পানিটি এমওএলের জন্য ছয়টি বড় আকারের এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণ করবে। এগুলোর প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার।
এলএনজি জাহাজ নির্মাণে এটি চীনের জন্য সবচেয়ে বড় একক কার্যাদেশ। গত দশ বছরে এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণে এর চেয়ে বড় অংকের চুক্তি দেখেনি দেশটি।
ধনী দেশগুলোই কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী: সিজিডি
দরিদ্র দেশগুলোর তুলনায় ধনী দেশগুলো কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের জন্য অনেক বেশি দায়ী। সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের (সিজিডি) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক বছরে প্রতিটি দেশের মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করেছে সিজিডি। এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ব্রিটিশ নাগরিক একজন কঙ্গোর নাগরিকের তুলনায় গড়ে ২০০ গুণ বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদন করে। মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে তা ৫৮৫ গুণ বেশি।
নিজেদের সংগৃহীত সামুদ্রিক জলবায়ুর তথ্য প্রকাশ করবে মায়েরস্ক
মায়েরস্কের জাহাজগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সমুদ্র পরিবহন সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সম্মুখীন হতে হয়। এবার সেই অভিজ্ঞতা সবার সাথে বিনিময় করবে কোম্পানিটি।
সম্প্রতি মায়েরস্ক ঘোষণা দিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে তাদের জাহাজগুলো জলবায়ু-সংক্রান্ত যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছে, সেগুলো বিনামূল্যে পাবলিক ডোমেইনে দিয়ে দেবে তারা। কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই তথ্য পাবলিক ডোমেইনে যুক্ত হলে সামুদ্রিক জলবায়ু সম্পর্কিত তথ্যের প্রাপ্যতা ২৮ শতাংশ বেড়ে যাবে।
অফশোর উইন্ডে উৎপাদন বাড়াতে ফ্লোটিং টার্বাইনে নজর যুক্তরাজ্যের
গভীর সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় এখন পর্যন্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় বিস্তর ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এই নেতৃত্ব ধরে রাখতে দেশটি অফশোর ফ্লোটিং উইন্ড প্রকল্প সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার সম্প্রতি এ খাতের ১১টি প্রকল্পে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে।
নতুন এই ১১টি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য প্রথাগত উইন্ড ফার্মগুলোর তুলনায় সমুদ্রের আরও গভীরে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে সম্পৃক্ততা বাড়াতে চায় সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ
২০৪০ সাল নাগাদ বৈশি^ক জ¦ালানি বাণিজ্যের ১৫ শতাংশ সুয়েজ খাল দিয়ে সম্পন্ন হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। ২০১৯ সালে খালটি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন হয়েছে মোট বাণিজ্যের ৮ শতাংশ।
এই যে প্রবৃদ্ধি, তা কিন্তু এমনিতে হবে না। বরং এর জন্য উপযুক্ত কৌশল অবলম্বন করবে কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নমনীয় বিপণন কৌশল গ্রহণের মাধ্যমেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে তারা।
দেড় বছর পর দেশে ফিরলেন ওয়াকাশিওর ভারতীয় ক্যাপ্টেন
দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাস পর জাপানি বাল্কার এমভি ওয়াকাশিও নাটকের অবসান হয়েছে। মরিশাসের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটানোর দায়ে কারাদ-প্রাপ্ত জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেন সুনীল কুমার নন্দেশ্বর ১৬ মাস বন্দিজীবন কাটানোর পর কারামুক্ত হয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। জাহাজটির দ-প্রাপ্ত সেকেন্ড অফিসারও কারাভোগ শেষ করে নিজ দেশ শ্রীলংকায় ফিরেছেন।
২০২০ সালের ২৫ জুলাই মরিশাস উপকূলের নিকটবর্তী সমুদ্রসীমায় প্রবাল প্রাচীরের সঙ্গে ধাক্কা খায় মিৎসুই ওএসকে লিমিটেডের (এমওএল) ভাড়া করা জাহাজ ওয়াকাশিও।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ চালিত ক্রুজ শিপ নির্মাণ করেছে চীন
নতুন একটি রিভার ক্রুজ ভেসেলের নির্মাণ ও পরীক্ষামূলক যাত্রা সম্পন্ন করেছে চীন। জাহাজটিকে বিশে^র সবচেয়ে বড় সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত ক্রুজ শিপ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। মধ্যচীনের ইয়াংজে নদীতে যাত্রীদের প্রমোদযাত্রার সেবা দেবে জাহাজটি।
প্রমোদতরীটির নাম দেওয়া হয়েছে থ্রি জর্জেস ওয়ান। পুরোপুরি বিদ্যুৎ চালিত এই জাহাজটিতে বিদ্যুৎ শক্তির জোগান দেবে ৭ হাজার ৫০০ কিলোওয়াটআওয়ার মেরিন পাওয়ার ব্যাটারি। একবার চার্জে জাহাজটি ৬০ মাইলের বেশি চলতে পারবে। থ্রি জর্জেস ওয়ানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন।
রটারডামে সর্ববৃহৎ হাইড্রোজেন প্লান্ট স্থাপন করবে শেল
পোর্ট অব রটারডামে বিশে^র সবচেয়ে বড় গ্রিন হাইড্রোজেন প্লান্ট স্থাপন করবে শেল। বন্দরটিতে শেলের বিদ্যমান জ্বালানি কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এটি। শিপিং খাত ও শিল্প-কারখানায় পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য থেকেই এই পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে শেল।
সবুজ জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে এই প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির সব কাজেই যতটা সম্ভব পুনর্ব্যবহারযোগ্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হবে। ২০২৪ সালে প্লান্টটি কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মায়েরস্ককে পেছনে ফেলে শীর্ষ কনটেইনার লাইনার এমএসসি
আলফালাইনারের তৈরি করা শীর্ষ ১০০ কনটেইনারবাহী জাহাজ কোম্পানির তালিকায় মায়েরস্ককে সরিয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে এমএসসি। ধারণক্ষমতার বিচারে এমএসসি এখন বিশে^র সবচেয়ে বড় কনটেইনারবাহী জাহাজ কোম্পানি।
মায়েরস্কের চেয়ে মাত্র ১ হাজার ৮৮৮ টিইইউর ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে এমএসসি। ১৯৭০ সালে যাত্রা করা এমএসসির বহরে বর্তমানে জাহাজ রয়েছে ৬৪৫টি, যার সম্মিলিত সক্ষমতা ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৭২৮ টিইইউ। অন্যদিকে ডেনিশ শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্কের সম্মিলিত সক্ষমতা ৪২ লাখ ৮২ হাজার টিইইউর কিছু বেশি।
সমুদ্রে নজরদারির জন্য স্যাটেলাইট পাঠাল দক্ষিণ আফ্রিকা
গত ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেপ ক্যানাভারেল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় স্পেসএক্সের ফ্যালকন নাইন রকেট। এই রকেটে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ছোট আকারের তিনটি স্যাটেলাইট। দেশটির উপকূলীয় এলাকায় চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সরকারের নজরদারির আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই স্যাটেলাইটগুলো।
বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা এআইএস ডেটার জন্য তৃতীয় পক্ষের সরবরাহকারীর ওপর নির্ভর করে। তবে সমুদ্র সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির সরকার এখন নিজস্ব স্যাটেলাইট নির্ভর এআইএস ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তুলতে চাইছে।
প্রমোদতরী ভ্রমণে নতুন সতর্কতা সিডিসির
করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রকোপে দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশবাসীকে প্রমোদতরী ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। করোনার টিকা নেওয়া মার্কিন নাগরিকদেরও সমুদ্র ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
ক্রুজ শিল্পের জন্য কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ভ্রমণ সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে সিডিসি। প্রায় ১০০ প্রমোদতরীকে নজরদারির আওতায় রেখেছে তারা। পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হারও পর্যবেক্ষণ করছে সিডিসি।
প্রতিযোগিতাবিরোধী চর্চায় ভারতে দোষী সাব্যস্ত চার জাপানি কার ক্যারিয়ার
সমুদ্রপথে মোটরগাড়ি পরিবহনকারী চার শীর্ষ জাপানি কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে ভারতীয় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় কোম্পানিগুলোকে মোট প্রায় ৮৫ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
এনওয়াইকে লাইন, কে-লাইন, এমওএল ও নিসান মোটর কার ক্যারিয়ার কোম্পানির (এনএমসিসি) বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে কম্পিটিশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (সিসিআই)। কমিশন বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে কোম্পানিগুলো সংঘবদ্ধভাবে ভাড়া বাড়ানোসহ প্রতিযোগিতাবিরোধী অন্যান্য কাজ করেছে।