একুশ শতকের বিশ্বে সমুদ্র অর্থনীতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি। আর সমুদ্র অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো ডিপ সি মাইনিং বা গভীর সমুদ্র থেকে খনিজ সম্পদ উত্তোলন। কিন্তু পরিবেশবাদীরা এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উত্তোলনের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
ফ্রান্সে ব্রেস্টে বুধবার শুরু হয়েছে ওয়ান ওশান সামিট। এই সম্মেলনকে সামনে রেখে ডিপ সি মাইনিংবিরোধী ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা। এমনই এক কর্মসূচিতে রটারডামে ডিপ সি মাইনিংয়ের জন্য প্রস্তুত ড্রিলশিপ হিডেন জেমকে ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। এছাড়া সামিট চলাকালে গভীর সাগরে ড্রিলিং বন্ধের আহবান জানিয়ে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্লোবাল ক্যাম্পেইনিং নেটওয়ার্ক গ্রিনপিস।

পরিবেশকর্মীরা বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব এজেন্ডার মধ্যে সাগর নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করা ও ডিপ সি মাইনিং বন্ধ করা অন্যতম। প্রোটেক্ট দ্য ওশান ক্যাম্পেইনের অধীনে বেশ কিছুদিন ধরেই সাগর নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের দাবি জানাচ্ছে গ্রিনপিস। গ্রুপটি জানিয়েছে, এরই মধ্যে তাদের একটি পিটিশনে ৩৭ লাখ স্বাক্ষর জমা পড়েছে।
গ্রিনপিসের মতো আরও যেসব সংগঠন ডিপ সি মাইনিং বন্ধের বিষয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে ওশান রিবেলিয়ন ও এক্সটিংকশন রিবেলিয়ন রটারডাম উল্লেখযোগ্য। তাদের সবারই যুক্তি, এই ধরনের মাইনিংয়ের ফলে সাগরতলে ব্লু কার্বনের মজুদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যা জলবায়ুর জন্য মারাত্মক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া এর ফলে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের অপূরণীয় ও অনিবার্য ক্ষত তৈরির আশঙ্কা করছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা।
আগামীকাল শুক্রবার সকালে ওয়ান ওশান সামিটের শেষ দিনে বৃহৎ পরিসরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য ব্রেস্টে সমাবেত হওয়ার জন্য সমর্থক ও আন্দোলনকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে গ্রিনপিস।