জলবায়ু পরিবর্তনে বছরে আড়াই হাজার কোটি ডলার হারাতে পারে শিপিং খাত

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জাহাজগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। মাঝেমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে কনটেইনার হারানোর ঘটনাও ঘটে

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ কার্বন নিঃসরণ। শিল্পোৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু শিপিং খাত- সর্বত্রই প্রতিনিয়ত নিঃসরণ হচ্ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড। নিঃসরণ প্রতিরোধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর সমুদ্র পরিবহন খাতকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলার লোকসান গুনতে হতে পারে। আরটিআই ইন্টারন্যাশনাল ও এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের (ইডিএফ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক শিপিং ও বন্দর শিল্প বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং এর কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। উষ্ণায়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ বন্দর অবকাঠামোর বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। আর বড় ধরনের ঝড়ের কারণে বন্দরের কার্যক্রম বিঘ্নিত হলে ক্ষতি হবে বছরে আরও ৭৫০ কোটি ডলার। এই হিসাব করা হয়েছে বন্দর, জাহাজ মালিক ও অপারেটরদের লোকসান এবং কাস্টমারদের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে বার্ষিক মোট যে লোকসানের ধারণা করা হয়েছে, তা ২০১৯ সালে কনটেইনার পোর্ট সেক্টরের বার্ষিক নিট আয়ের প্রায় সমান। অর্থাৎ বছরভর সেবা দিয়ে শিপিং খাত যে আয় করবে, তার প্রায় পুরোটাই হারাতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া ও বন্যার কারণে বন্দর অবকাঠামোর অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ ও কার্বনমুক্ত জ্বালানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সমুদ্র পরিবহন খাতের নীতিনির্ধারকরা সম্ভাব্য লোকসান এড়ানো ও অধিক টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখতে পারেন।

ইডিএফ উল্লেখ করেছে, গত ২৫ বছরে আন্তর্জাতিক শিপিং খাতের পরিসর বেড়েছে। বার্ষিক বাণিজ্যের আকার বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে গ্রিন হাউজ গ্যাসের অন্যতম বড় নিঃসারকে পরিণত হয়েছে শিপিং খাত। বর্তমানে মোট নিঃসরণের প্রায় ২০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে যেসব পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, সামুদ্রিক ঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া ও বারবার বন্যা আঘাত হানা। এসব দুর্যোগ প্রত্যক্ষভাবে শিপিং কার্যক্রম ও বন্দর অবকাঠামোর ক্ষতি সাধন করে।

যেহেতু বৈশ্বিক বাণিজ্য ভবিষ্যতে আরও বাড়বে, সেহেতু সামনের দিনগুলোয় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের চাপও বাড়বে। ২১০০ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যের আকার ১২ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জলবায়ু পরিবর্তন নিশ্চিতভাবেই এ খাতে বড় ধরনের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here