
বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্র বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সক্ষমতা ও কোভিড-১৯ পরবর্তী স্বাস্থ্যগত ও আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেয়া পদক্ষেপ এবং টিকা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। রোববার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৫১ বছর পার করেছে। এই সময়ে অর্থনৈতিকভাবে দেশ অনেক এগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত এক দশকে অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশ এক নতুন উচ্চতায় অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর ‘উন্নয়ন মিরাকল’ নয়, বরং বাংলাদেশ এখন অন্যদের জন্য ‘উন্নয়নের রোল-মডেল’। অর্থনীতির আকারে বর্তমান বিশ্বে ৪১তম বাংলাদেশ যা ২০০৬ সালে ছিল ৬০তম। স্বাধীনতার পরে আমাদের অর্থনীতি জিডিপিতে ১০০ বিলিয়ন ছাড়াতে সময় লেগেছিল ৩৮ বছর, গত ১২ বছরে তা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪১১ বিলিয়ন দাঁড়িয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ খুবই লাভজনক এবং বিনিয়োগের জন্য উত্তম স্থান হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বেশি বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ।
পিটার ডি হাস বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, বিনিয়োগের জন্য প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুফল, বন্ধুসুলভ আচরণ, কর্মক্ষম জনবলের সহজলভ্যতাসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন।