বাজার নিয়ন্ত্রণে ফের জরুরি মজুদ থেকে জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ আইইএর

রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানির বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) সদস্য দেশগুলো। ঘাটতি মোকাবিলা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তারা তাদের জরুরি মজুদ থেকে বাজারে মোট ১২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ নিয়ে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো মজুদ থেকে তেল সরবরাহের উদ্যোগ নিল আইইএ। জোটটির ইতিহাসে এটি হবে পঞ্চমবারের মতো মজুদ উন্মুক্তকরণ। প্রতিবারই জ্বালানি বাজারের সংকট মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল আইইএর সদস্য দেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এই সরবরাহ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। যুক্তরাষ্ট্রসহ শিল্পোন্নত ৩১টি দেশ এই সংস্থার সদস্য। তবে রাশিয়া এর সদস্য নয়।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল টুইটারে এক বার্তায় বলেন, সংস্থাটি সমষ্টিগতভাবে ১২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুদ উন্মুক্ত করার পথে এগোচ্ছে। সংস্থাটির জন্য এটিই সর্বাধিক পরিমাণে মজুদ উন্মুক্তকরণের ঘোষণা। সদস্য দেশগুলো কে কতখানি তেল সরবরাহ করবে, তা নির্ধারণের সময় তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আইইএর সদস্যরা আগামী ছয় মাস ধরে এই ১২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ করবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একাই সরবরাহ করবে ছয় কোটি ব্যারেল। এটি আবার গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে যে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে, তার অংশ।

সব দেশ মিলিয়ে আগামী ছয় মাসে জরুরি মজুদ থেকে প্রায় ২৪ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হবে। প্রতিদিন গড়ে সরবরাহ হবে ১০ লাখ ডলারের বেশি।

চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি। গত ৭ মার্চ অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ১৪০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তখন আইইএ ছয় কোটি ব্যারেল মজুদ উন্মুক্ত করলেও দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ওই ৬ কোটি ব্যারেলের অর্ধেকই সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here