একদিকে বাণিজ্য বৃদ্ধির কারণে কনটেইনার পরিবহনের চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়া, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষার বিধিনিষেধের কারণে পুরনো জাহাজগুলো বাতিলের উপক্রম হওয়া-এই দুই প্রভাবকের কারণে কনটেইনার জাহাজনির্মাতাদের এখন দারুণ সুসময় যাচ্ছে। তাদের কাছে নতুন নতুন সব কনটেইনার জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ আসছে। এমনকি এই ধারা চলতে থাকলে কনটেইনার জাহাজের অর্ডারবুক অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিলের (বিমকো) একটি হিসাব বলছে, গত দেড় বছরে মোট ৬৫ লাখ টিইইউর বেশি ধারণক্ষমতার জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ এসেছে। গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্ডারবুক এই মাইলফলক ছাড়ালো।
বিমকোর চিফ শিপিং অ্যানালিস্ট নিয়েলস রাসমুসেন জানান, ‘মাত্র ১৮ মাসে নতুন কনটেইনার জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ ৬০ লাখ টিইইউ ছাড়িয়েছে। অর্ডারবুকের এই স্ফীতি ২০০৮ সালের শেষের দিকের পর আর দেখা যায়নি।’ বিমকো আরও জানিয়েছে, নতুন কার্যাদেশের এই পরিমাণ কনটেইনার পরিবহনের বিদ্যমান মোট সক্ষমতার প্রায় ২৬ শতাংশ, যা ২০১৪ সালের পর এবারই দেখা গেল।
করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে জাহাজনির্মাণ শিল্প কতটা শক্তভাবে ফিরে এসেছে, তা বিমকোর একটি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালের অক্টোবরে নতুন কনটেইনার জাহাজের অর্ডারবুক ছিল মাত্র ২০ লাখ টিইইউ। আর বর্তমানে তা ৬৫ লাখ টিইইউ ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে বিমকো জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ মোট ৬২ লাখ টিইইউ সক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ হস্তান্তর করা হবে।
গত বছর শিপিং লাইনগুলোকে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-লার্জ সেগমেন্টের কনটেইনার জাহাজ বহরে যোগ করতে তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এমএসসি, ওয়ান, এভারগ্রিনের মতো শীর্ষ ক্যারিয়ারদের মধ্যে ২৪ হাজার টিইইউর জাহাজ সংগ্রহে প্রতিযোগিতা লেগে গেছে। মায়েরস্ক অবশ্য ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টিইইউ রেঞ্জের জাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করাকেই বেশি লাভজনক মনে করছে।