যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড উপকূলের কাছে চেসাপিক বে-তে ডুবোচরে আটকে যাওয়া কনটেইনার জাহাজ এভার ফরোয়ার্ডকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখন ১ লাখ ২৭ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার জাহাজটির ওজন কমানোর জন্য কিছু কনটেইনার সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। জাহাজটি থেকে ৫৫০টি কনটেইনার অপসারণের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে মার্কিন কোস্ট গার্ড।
এভারগ্রিন মেরিন করপোরেশনের মালিকানাধীন জাহাজ এভার ফরোয়ার্ড গত ১৩ মার্চ বাল্টিমোর পোর্টের সিগার্ট টার্মিনাল ছেড়ে আসার পর চেসাপিক বে-তে ডুবোচরে আটকে যায়। হংকংয়ের পতাকাবাহী ৩৩৪ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি ভার্জিনিয়ার নরফোকের উদ্দেশে যাচ্ছিল। এতে ১১ হাজার ৮৫০টি কনটেইনার পরিবহন করা যায়। আটকে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে ধারণক্ষমতার প্রায় কাছাকাছি সংখ্যক কনটেইনার ছিল।
প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, এভার ফরোয়ার্ডের তলদেশ কাদামাটির প্রায় ২৪ ফুট নিচে পর্যন্ত গেঁথে গেছে। এ অবস্থায় জাহাজটিকে টেনে ডুবোচর থেকে মুক্ত করা ও পুনরায় পানিতে ভাসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ড্রেজিং করে এবং দুই দফায় চেষ্টা করেও জাহাজটিকে নড়ানো সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু কনটেইনার সরিয়ে জাহাজটির ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

৯ এপ্রিল এই অভিযান শুরু হয়েছে। প্রতিদিন দিনের আলোয় কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। প্রতিটি কনটেইনার সরাতে কমপক্ষে ১০ মিনিট করে সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত বছররের ২৩ মার্চ সুয়েজ খালে আটকা পড়ে এভারগ্রিন মেরিনের মালিকানাধীন ২০ হাজার টিইইউ কনটেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ এভার গিভেন। লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার সময় দুই লাখ টনের এই জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালটিতে আড়াআড়িভাবে আটকে যায়। ছয় দিন আটকে থাকার পর অবশেষে মুক্ত এভার গিভেন।
এভার গিভেন আটকে যাওয়ায় সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল, যা সাপ্লাই চেইনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে এভার ফরোয়ার্ড আটকে যাওয়ার কারণে অন্যান্য জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।