মোম্বাসা পোর্ট চীনা ঋণের জামানত নয়: জন হপকিন্সের প্রতিবেদন

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কেনিয়ার অডিটর জেনারেলের দপ্তর থেকে ইস্যুকৃত একটি চিঠি ফাঁস হয়ে যায়। এতে কেনিয়ার একটি রেল প্রকল্পে চীনের ঋণসহায়তা পেতে মোম্বাসা পোর্টকে জামানত হিসেবে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।

ফাঁস হওয়া এই চিঠির তথ্যকে কেনিয়ার জনসাধারণ বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছিল। কারণ এমন এক সময়ে এই খবর জনসমক্ষে এসেছিল, যখন চীনের কছ থেকে নেওয়া ঋণের অংশবিশেষ পরিশোধের জন্য শ্রীলংকার হাম্বানটোটা বন্দর পরিচালনার ভার একটি চীনা কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল।

একদিকে মোম্বাসা-নাইরোবি স্ট্যান্ডার্ড গেজ রেলওয়ে (এসজিআর) নির্মাণের জন্য চীনের কাছ থেকে ৩৬০ কোটি ডলারের ঋণ নিয়েছে কেনিয়া। অন্যদিকে অডিটর জেনারেলের দপ্তর থেকে ইস্যুকৃত এমন একটি চিঠি। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে জনশ্রুতি ছড়িয়ে পড়ে যে, মোম্বাসা বন্দর হয়তো চীনের তথাকথিত ‘ঋণ-ফাঁদ কূটকৌশল’-এর আরেকটি উদাহরণ হতে যাচ্ছে।

চীন ও কেনিয়া সরকার অবশ্য প্রথম থেকেই মোম্বাসা বন্দরকে জামানত হিসেবে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে। তবে এসজিআর প্রকল্পে কী শর্তের ভিত্তিতে ঋণসহায়তা দিয়েছে চীন, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করেনি দেশ দুটির কোনোটিই। ফলে চীন ও কেনিয়া যতই অস্বীকার করুক না কেন, জনগণের উদ্বেগ ঠেকানো যায়নি।

তবে জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চায়না আফ্রিকা রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (সিএআরআই) প্রোগ্রামের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অডিটর জেনারেলের দপ্তর থেকে যে চিঠিটি ইস্যু করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে মোম্বাসা বন্দরকে জামানত হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি সঠিক নয়। তাহলে জল এত ঘোলা হলো কেন? সিএআরআই বলছে, এর কারণ হলো অডিটর জেনারেলের ঋণের শর্ত বুঝতে ভুল করা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অডিটর জেনারেল কেনিয়া পোর্টস অথরিটিকে (কেপিএ) এই ঋণের বরোয়ার অর্থাৎ ঋণগ্রহীতা হিসেবে জেনেছিলেন। আর সে হিসাবে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব কেপিএর ওপরই বর্তায়। কিন্তু প্রকৃত বিষয় হলো এসজিআর প্রকল্পের ঋণচুক্তিতে কেনিয়ার স্টেকহোল্ডার ছিল তিন প্রতিষ্ঠান-ন্যাশনাল ট্রেজারি, কেনিয়া রেলওয়ে করপোরেশন (কেআরসি) ও কেপিএ। এর মধ্যে ন্যাশনাল ট্রেজারি হলো মূল ঋণগ্রহীতা। কেআরসি হলো প্রজেক্ট কোম্পানি। আর কেপিএ হলো প্রকল্পের প্রধান গ্রাহক ও মোম্বাসা পোর্টের মূল মালিক। চুক্তিতে ঋণদাতা হিসেবে নাম রয়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংকের।

অর্থাৎ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঋণগ্রহীতা ন্যাশনাল ট্রেজারি, কেপিএ নয়। সুতরাং ঋণ পরিশোধের ভার কেপিএর ওপর বর্তায় না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রকল্পের অর্থায়নের ক্ষেত্রে সার্বভৌম ঋণের দায়মুক্তির যে প্রচলিত ধারা রয়েছে, অডিটর জেনারেল সম্ভবত সেটি সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। এ কারণেই এই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here