চেসাপিক বের ডুবোচরে এক মাসের বেশি সময় ধরে আটকে থাকার পর অবশেষে মুক্ত হয়েছে এভার ফরোয়ার্ড। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জাহাজটির ক্লিন হেলথের সার্টিফিকেটও মিলেছে। এভারগ্রিন মেরিনের মালিকানাধীন জাহাজটিকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অ্যানাপোলিস উপকূলে নোঙ্গর করে রাখা রয়েছে। খুব শিগগিরই সেটি বাল্টিমোর পোর্টের উদ্দেশে যাত্রা করবে। তবে পেছনে রেখে যাবে বেশ কিছু আইনি জটিলতা, যেগুলোর সমাধানের ভার পড়বে এভারগ্রিনের আইনজীবীদের ওপর।
বেশ কয়েকদিনের অব্যাহত প্রচেষ্টা শেষে ১৭ এপ্রিল এভার ফরোয়ার্ডকে ডুবোচর থেকে মুক্ত করা হয়। এরপর সেটিকে অ্যানাপোলিসের কাছে নোঙ্গর করা হয়। সেখানে মার্কিন কোস্ট গার্ড ও কোম্পানির ডুবুরিরা জাহাজটির কাঠামো কিংবা যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা এবং সেটি সমুদ্রে চলার মতো উপযোগী অবস্থায় রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখে। এই পরীক্ষায় জাহাজটির খুব বেশি ক্ষতি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাল্টিমোর সানের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এত দীর্ঘ সময় ধরে উপসাগরের কাদামাটিতে আটকে থাকার পরও জাহাজটি বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। কেবল ২ মিলিমিটারের একটি ফাটল ও কিছু জায়গায় রং উঠে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায়।
কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। এই কাজে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চেসাপিক বের ক্রেইগহিল চ্যানেলের একটি টার্ন মিস করে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয় এভার ফরোয়ার্ড। এ সময় আবহাওয়াজনিত কারণে চ্যানেলটির পানির গভীরতা কমে যায় এবং জাহাজটি সজোরে গিয়ে ডুবোচরে আঘাত হানে। একে তো জাহাজটিতে সক্ষমতার প্রায় পূর্ণ সংখ্যক কনটেইনার ভর্তি ছিল, উপরন্তু এর গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩ নটিক্যাল মাইলের কাছাকাছি। ফলে জাহাজটি কাদামাটির অনেকটা গভীর পর্যন্ত গেঁথে যায়।
তাইওয়ানভিত্তিক এভারগ্রিন মেরিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাহাজটি বাল্টিমোর পোর্টের উদ্দেশে যাত্রা করবে। জাহাজটিকে পুনরায় পানিতে ভাসানোর জন্য যে ৫০০টি কনটেইনার সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকেও আবার জাহাজে তোলা হবে। বাল্টিমোরে ফেরার পথে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দরে পোর্ট কল দেবে এভার ফরোয়ার্ড।
এভারগ্রিন মেরিন করপোরেশনের মালিকানাধীন জাহাজ গত ১৩ মার্চ বাল্টিমোর পোর্টের সিগার্ট টার্মিনাল ছেড়ে আসার পর চেসাপিক বের ডুবোচরে আটকে যায় এভার ফরোয়ার্ড। হংকংয়ের পতাকাবাহী ৩৩৪ মিটার দীর্ঘ জাহাজটিতে ১১ হাজার ৮৫০টি কনটেইনার পরিবহন করা যায়।
প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, এভার ফরোয়ার্ডের তলদেশ কাদামাটির প্রায় ২৪ ফুট নিচে পর্যন্ত গেঁথে গেছে। এ অবস্থায় জাহাজটিকে টেনে ডুবোচর থেকে মুক্ত করা ও পুনরায় পানিতে ভাসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ড্রেজিং করে এবং দুই দফায় চেষ্টা করেও জাহাজটিকে নড়ানো সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু কনটেইনার সরিয়ে জাহাজটির ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ৯ এপ্রিল মার্কিন কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে এই কাজ শুরু হয়।
গত বছরের ২৩ মার্চ সুয়েজ খালে আটকা পড়ে এভারগ্রিন মেরিনের মালিকানাধীন ২০ হাজার টিইইউ কনটেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ এভার গিভেন। লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার সময় দুই লাখ টনের এই জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালটিতে আড়াআড়িভাবে আটকে যায়। ছয় দিন আটকে থাকার পর অবশেষে মুক্ত এভার গিভেন।
এভার গিভেন আটকে যাওয়ায় সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল, যা সাপ্লাই চেইনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে এভার ফরোয়ার্ড আটকে যাওয়ার কারণে অন্যান্য জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি।