গত দেড় দশক ধরে চীনের উপকূলীয় মৎস্য আহরণকারীরা জ্বালানিতে ভর্তুকি সুবিধা পেয়ে আসছেন। তবে দেশটির শ্যানডং ও ফুজিয়ান প্রদেশ সম্প্রতি জ্বালানি ভর্তুকির পরিবর্তে ‘ফিশারি স্টুয়ার্ডশিপ’ ভর্তুকি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।
জ্বালানি ভর্তুকিকে চীনের মৎস্য আহরণ খাতের জন্য প্রাণ সঞ্চারকারী উদ্যোগ দেখা হচ্ছিল। কিন্তু এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেহেতু এই ভর্তুকি মৎস্য আহরণকারী সব নৌযানের জন্যই প্রযোজ্য, সেহেতু অতিরিক্ত আহরণকারীরাও সুবিধাটি পেয়ে আসছে। এর ফলে মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে।
এর আগে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বৈঠকে চীন জানিয়েছিল, তারা এমন ভর্তুকির বিরুদ্ধে, যার ফলে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ উৎসাহিত হয়। দেশটি আশা করছে, আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের ১২তম সম্মেলনে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
শ্যানডং ও ফুজিয়ানের ঘোষণা দেওয়া নতুন এই স্টুয়ার্ডশিপ ভর্তুকি কি? প্রদেশ দুটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, দুটি ক্ষেত্রে সমানভাবে এই ভর্তুকি দেওয়া হবে। প্রথমত, মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়ে আইন মেনে চললে। দ্বিতীয়ত, মৎস্য আহরণের ক্ষেত্রে যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্যবিধি রয়েছে, সেগুলো প্রতিপালন করলে।
মৎস্য সম্পদের মজুদ বাড়াতে ২০১৭ সালে আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় এক মাস বাড়িয়ে দেয় চীন। তারপরও কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন দেখা যায়। নতুন এই ভর্তুকি আহরণ বন্ধের সময়ে জেলেদের ব্যয় নির্বাহের সংস্থান করবে এবং তাদের আইন প্রতিপালনের বিষয়ে আরও বেশি উৎসাহী করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।