করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি খাত। তাতে একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের দুই মাস বাকি থাকতেই পণ্য রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। জুলাই-এপ্রিল এই ১০ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। দেশীয় মুদ্রায় যা পৌনে ৪ লাখ কোটি টাকার সমান। পুরো অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি খাতে লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। সেবা খাতসহ মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পণ্য রপ্তানি পাঁচ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলকে পৌঁছে যাবে বছর শেষে। এর আগে এক বছরে সর্বোচ্চ রপ্তানি হয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে, ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলার। করোনার কারণে পরের দুই বছরে রপ্তানি কমে যায়।
পণ্য রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এতে দেখা যায়, গত এপ্রিলে ৪৭৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় যা ৪০ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকার সমান।
এপ্রিলে ৩৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪৭৪ কোটি ডলারের পণ্য। তার মানে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় ৪০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। আবার গত এপ্রিলে যে পরিমাণ রপ্তানি হয়েছে, তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি। তবে সার্বিকভাবে গত ১০ মাসে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ শতাংশ। জুন শেষে এই প্রবৃদ্ধি যদি কাছাকাছিও থাকে, তাহলে সেটিও হবে রেকর্ড। কারণ, ১০ বছরের মধ্যে গত অর্থবছর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
পণ্য রপ্তানিতে বরাবরের মতো শীর্ষ স্থানে রয়েছে তৈরি পোশাক। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ৩ হাজার ৫৩৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত এবং প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে ভালো করছে বাংলাদেশ।