চট্টগ্রাম থেকে এবার সরাসরি পণ্য যাবে রটারড্যাম বন্দরে

রটারড্যাম বন্দর। ছবি: splash247.com

ইউরোপে পণ্য পরিবহনের হাব হচ্ছে নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম বন্দর। এবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপের সেই ব্যস্ততম বন্দরে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু হচ্ছে। ১৫ মে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রথম জাহাজটি রটারড্যামের উদ্দেশে রওনা দেবে; ২০-২১ দিনে সেই বন্দরে পৌঁছবে। এরপর জাহাজটি যাবে ইংল্যান্ডের আরেক ব্যস্ততম বন্দর লিভারপুরে। নতুন এ সার্ভিসের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ফনিক্স লিমিটেডের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কালের কণ্ঠ।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রথমবার ইতালিতে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। সেই পণ্য পরিবহনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন এই সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে লন্ডনভিত্তিক ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার কম্পানি ‘অলসিস গ্লোবাল লজিস্টিকস’। প্রাথমিকভাবে তিনটি জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে আরো দুটি জাহাজ এই সার্ভিসে যোগ হবে। আর প্রতি ১০ দিন পর একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লিভারপুল বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবে।

নতুন সার্ভিসের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে ফনিক্স শিপিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সৈয়দ সোহেল হাসনাত বলেন, ‘আমরা তিনটি জাহাজ দিয়ে নতুন সার্ভিসটি চালু করছি। এরই মধ্যে বন্দরের অনুমতি পেয়েছি। প্রতি ১০ দিন পর একটি করে জাহাজ চট্টগ্রাম ছাড়বে। চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি রটারড্যাম পৌঁছতে সময় লাগবে ২০-২২ দিন। রটারডাম থেকে লিভারপুর বন্দরে পৌঁছতে লাগবে আরো এক দিন। ’

তিনি আরো বলেন, “প্রথম জাহাজ ‘এমভি এমো’তে ৬০০ থেকে ৭০০ একক রপ্তানি কনটেইনার বুকিং আছে। যেগুলোর বেশির ভাগই নামবে রটারড্যাম বন্দর। আপনি জানেন রটারডাম থেকে ইউরোপের দেশ জার্মানি, সুইডেনসহ বেশির ভাগ দেশে সড়কপথে দ্রুত পণ্য পরিবহন সম্ভব। ’

বর্তমানে চট্টগ্রাম-ইতালি রুটে তিনটি কনটেইনার জাহাজ সরাসরি রপ্তানি পণ্য পরিবহন করছে ইতালির ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান রিফ লাইন ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যালিপসো কম্পানিয়া ডি নেভিগেশন। বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্য ইতালি নেমে সেই বন্দর থেকে সড়কপথে ইউরোপের অন্য দেশে নেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন এই সার্ভিসটি আরো বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান।

তাদের মতে, চট্টগ্রাম-রটারড্যাম-লিভারপুল রুটে তিনটি জাহাজই বড় আকারের, অর্থাৎ এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ একক ধারণক্ষমতার কনটেইনার। বড় জাহাজ হওয়ায় কনটেইনার পরিবহনে একসঙ্গে বেশি করা যাবে। আর প্রতি ১০ দিন পর জাহাজ চট্টগ্রাম ছাড়ায় রপ্তানি পণ্য অনেক সময়ে জাহাজীকরণ করা সম্ভব হবে। আবার আগামী প্রতিকূল আবহাওয়ায় সাগর যখন উত্তাল থাকে তখনো এই আকারের জাহাজটি তুলনামূলক নিরাপদ থাকবে।

কত দিন এই সার্ভিস চলবে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন হাসনাত বলেন, এখন বৈশ্বিক শিপিং লাইনগুলোর যা অবস্থা, তাতে বাংলাদেশের পণ্য বেশি ভাড়া দিয়েও জাহাজে স্থান পাচ্ছে না। নতুন সার্ভিসে সেই ঝামেলা তো নেই। আর আমাদের আগামী তিনটি জাহাজের পণ্যের বুকিং ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে সার্ভিসটি স্থায়ী হতে পারে যদি পণ্যের এমন চাহিদার ধারাবাহিকতা থাকে।

এদিকে স্পেনের বার্সেলোনা এবং নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম বন্দরে আরো একটি সরাসরি জাহাজ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সুইজারল্যান্ডের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কমোডিটি সাপ্লাইজ এজি’। প্রতিষ্ঠানটি তিনটি কনটেইনার জাহাজ দিয়ে আগামী ২২ মের শেষে সার্ভিস শুরু করবে। প্রতি ১৫-১৭ দিন পর একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়বে।

জানতে চাইলে স্থানীয় এজেন্ট রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, এখন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা নিজেরা জাহাজ ভাড়া করে, নিজেদের কনটেইনার নিয়ে নিজেদের উদ্যোগে পরিবহন করছে। নতুন এই ধারণায় পণ্য ইউরোপে পৌঁছতে সময় সাশ্রয়, ভাড়া কম, নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছা এবং বিশ্বের বড় জাহাজ পরিচালনাকারীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে। এতে করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৪৫ শতাংশই রপ্তানি হয় ইউরোপের ২৭টি দেশে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এসব দেশে এক হাজার ৭৪৬ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া মোট সাত লাখ ২৯ হাজার একক কনটেইনারের মধ্যে তিন লাখ কনটেইনারই নেওয়া হয়েছে ইউরোপে। আর রপ্তানি হওয়া পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জার্মানিতে গেছে ১৫ শতাংশের বেশি। ইংল্যান্ডে গেছে প্রায় ১০ শতাংশ। স্পেনে গেছে ৬ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসে গেছে সাড়ে ৩ শতাংশ। ইতালিতে গেছে ৩.৩৭ শতাংশ। এসব সরাসরি জাহাজ সার্ভিস চালু হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে এবং রপ্তানি পণ্যের অর্ডার বেশি পরিমাণ বাংলাদেশে আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here