আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন এনইসি। এই এডিপির মাধ্যমে আগামী অর্থবছরজুড়ে ১ হাজার ৪৩৫টি প্রকল্পে এ অর্থ খরচ করা হবে।
আগামী অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩৫০। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের জন্য প্রায় ৯ হাজার ৯৩৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব সংস্থা বা কর্পোরেশনের প্রকল্প সংখ্যা হলো ৮৫টি। তাতে সব মিলিয়ে এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩ কোটি টাকা। যা চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির চেয়ে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং মূল এডিপির চেয়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
মঙ্গলবার (১৭ মে) অনুষ্ঠিত এনইসির সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন করা হয়। নতুন এডিপিতে প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৪৩৫টি।
এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অনলাইনে এনইসি সভায় যোগ দেন। শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনইসি সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের সরকার জনগণের তুষ্টির জন্য কাজ করে। কিন্তু অনেকে জনতুষ্টির প্রকল্প বলে নেতিবাচক সমালোচনা করেন। প্রকল্পের খরচে কৃচ্ছ্র সাধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
আগামী এডিপিতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেওয়া হবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। আর বিদেশি সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষে আছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এই খাতটি ৭০ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা বা এডিপির প্রায় ২৯ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ৩৯ হাজার ৪১২ কোটি টাকা, শিক্ষা খাত ২৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা, গৃহায়ণ খাত ২৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাত ১৯ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন এডিপি সম্পর্কে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, আগামী এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা কমেছে। অহেতুক প্রকল্প রাখা হচ্ছে না। উন্নয়নের সঙ্গে সংগতি রেখেই এডিপিতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য সময় চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নথি পাঠানো হয়েছে। জুন মাসেই সেতু উদ্বোধন করা হবে। এডিপির বই ঘেঁটে দেখা গেছে, মূল সেতুর কাজ শেষ হয়ে গেলেও আগামী অর্থবছরেও ২ হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্দ রাখা হয়েছে পদ্মা সেতুর জন্য। মূলত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঠিকাদারদের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য এই টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে। রূপপুর প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে এডিপির অর্থায়নে বিদেশি সহায়তায় কোনো সমস্যা হবে না। আমরা সতর্ক কিন্তু শঙ্কিত নই।