দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা হচ্ছিলো। অবশেষে তা দিনের আলোর মুখ দেখল। এখন ট্রেনযোগে দেশের পণ্য যাবে ভারতে। দ্রুত পরীক্ষামূলকভাবে দুই দেশে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
গত মার্চে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়। সেখানে পণ্য রপ্তানির দরজা উন্মুক্ত হয়। এতে রেলওয়ে, বন্দর অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ওপর যৌথ সমীক্ষা চালানোর ব্যাপারে একমত হয় ঢাকা-দিল্লি।
গত ১৭ মে এ নিয়ে অধ্যাদেশ জারি করে ভারতের ট্যাক্স অ্যান্ড কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, উভয়পক্ষের বিদ্যমান রেল পরিষেবার আওতায় ভারতীয় পণ্য খালাসের পর খালি হওয়া কনটেইনারগুলো দুই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহন করতে পারবে।
বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্রমোন্নতির ধারাবাহিকতায় এ রেল যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। বর্তমানে দর্শনা-গেদে, বেনাপোল-পেট্রাপোল, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ও বিরল-রাধিকাপুর পুরোপুরি চালু রয়েছে।
এর মধ্যে দর্শনা-গেদে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে (টিএআর) রুট-১, রহনপুর-সিংগাবাদ টিএআর-২ রুট হিসেবে পরিচিত। ওই দুটি ব্যবহার করেই ট্রেনযোগে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।
এখন ভারতীয় পণ্য খালাসের পর ফিরতি ট্রেনে বাংলাদেশি পণ্যও এ দুই রুটে ভারতে রপ্তানি হবে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস।
তবে শর্ত জুড়ে দিয়েছে তারা। প্রথমত, বাংলাদেশ থেকে রেলপথে সিল করা কনটেইনারে পণ্য পাঠাতে হবে। দ্বিতীয়ত, শুল্ক স্টেশনে ইলেক্ট্রনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে পণ্য ও ট্রেনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যাতে কোনো অবৈধ পণ্য প্রবেশ করতে না পারে।
ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে এতদিন দেশে আসা কনটেইনারগুলো খালি অবস্থাতেই ফিরে যেত।
করোনা মহামারিকালে বাংলাদেশ-ভারতের কনটেইনার ট্রেন সার্ভিস জোরদার হতে শুরু করে। কর্মকর্তারা বলছেন, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য চাঙ্গা করতে ক্রস বর্ডার রেলপথ সংযোগ চালু করার চিন্তাভাবনা চলছে।