বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে উভয় দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন। স্থলবন্দরগুলোয় অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে আমদানি-রপ্তানিতে যেমন সময় বেশি লাগছে তেমনি বাড়ছে বাণিজ্য ব্যয়ও। ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (২৮ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সফররত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন মতামত ব্যক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান ও ডিসিসিআইয়ের সদস্যরা।
ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, দুদেশের স্থলবন্দরগুলোতে অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সময় বেশি লাগছে। যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থা নিরসনে উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিতকরণে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ভারতীয় উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এরই মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে। এ সময় কলকাতার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য বিশেষ জোরারোপ করেন এ ব্যবসায়ী নেতা। বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ আরো বাড়াতে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা, রুলস অব অরিজিনের সহজীকরণ এবং দুদেশের মধ্যকার ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন রিজওয়ান রাহমান।
পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে উন্নত অবকাঠামোর কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকার খুঁজে বের করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার এবং ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স যৌথভাবে গবেষণা পরিচালনা করতে পারে বলে মনে করেন রাজ্যের এ মন্ত্রী।
অপরদিকে, একই দিন পশ্চিমবঙ্গ সফররত ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (ডব্লিউবিআইডিসি) চেয়ারম্যান রাজীব সিনহার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে যোগাযোগ অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা এবং বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের মিথস্ক্রিয়া আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান রাজীব সিনহা। বিশেষ করে দু’দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আরো বেশি মাত্রায় গতি আনবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ডব্লিউবিআইডিসির এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এ ছাড়া প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত বিটুবি ম্যাচ-মেকিংয়ে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে বেঙ্গল চেম্বারের সভাপতি সুবীর চক্রবর্তী জানান, ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল এবং বাংলাদেশের মধ্যকার যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে ভারতের আগ্রহ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন বিভাগের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নন্দীনী চক্রবর্তী এবং কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যেখানে যোগাযোগ সহজীকরণ, নীতি সহায়তা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো নিরসন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।