কোভিড মহামারীতে দেওয়া প্রণোদনার নীতি সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। রোববার (১৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠকে সংগঠনের নেতারা এগুলোর সঙ্গে নতুন কিছু দাবিও তুলেছেন।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের নেত্বত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে একগুচ্ছ লিখিত দাবি তুলে ধরে।
লিখিত প্রস্তাবে সংগঠনটি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে টেনে বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রাবিধি শিথিল করে ২০২১ সালের মার্চে দেওয়া সুবিধার মেয়াদ ২০২২ সালের পুরোটা সময় জুড়ে চেয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারীতে লকডাউনের সময় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রণোদনা ঋণ প্যাকেজের পাশাপাশি অনেক নীতি সুবিধা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
নীতিসুবিধাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, রপ্তানি আয় ১২০ দিনের পরিবর্তে ২১০ দিনের মধ্যে আনা, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির দায় পরিশোধে ১৮০ দিন অতিরিক্ত সময় দেওয়া, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে নেওয়া ঋণের মেয়াদ ৯০ দিনের পরিবর্তে ১৮০ দিন করা, ইডিএফ এর অর্থে ব্যাক টু ব্যাক এলসির দায় পরিশোধে সুযোগ ইত্যাদি।
এছাড়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলেও খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ না করা ইত্যাদি।
২০২০ সালের মার্চের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সুবিধাগুলোর মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত বছরের জুন মাসে বাড়ানো মেয়াদও শেষ হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে।
এছাড়া ২০২১ সালে বকেয়া হওয়া ঋণের ১৫ শতাংশ পরিশোধ করেই খেলাপি হওয়া থেকে বেচে যান ব্যবসায়ীরা। সেই সুযোগ চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল বিশেষ বিবেচনায়। সেই সুযোগটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বিজিএমইএ গভর্নরের কাছে দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি ‘এককালীন এক্সিটের’ অর্থের কিস্তি পরিশোধের সময় বাড়ানোর অনুরোধও করেছে।
বিজিএমইএর অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পণ্য আমদানিতে বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়ার মেয়াদ বাড়িয়ে ১২০ দিনের পরিবর্তে ১৮০ দিন করা এবং গ্রুপ অব কোম্পানির কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ খেলাপি হলে সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের অর্থায়ন সুবিধা বন্ধ না রাখা।
বন্ডেড ওয়্যার হাউজ না থাকা কোম্পানিগুলোকেও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার অনুমতি চেয়েছে সংগঠনটি।