বাণিজ্যিক জাহাজের জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বাতাসের সহায়তা পাওয়া যাবে এমন প্রপালশন ও রুট অপ্টিমাইজেশন সিস্টেম ডেভেলপ করা হয়েছে একটি প্রকল্পের অধীনে। নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য একটি বাল্ক ক্যারিয়ারকে বাছাই করা হয়েছে। আগামী বছরের শুরুর দিকেই জাহাজটিতে উইন্ডউইংস নামের এই প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উইন্ডউইংস প্রযুক্তিটি ডেভেলপ করেছে বিএআর টেকনোলজিস। আর এটি স্থাপন করা হবে মিৎসুবিশি করপোরেশনের মালিকানাধীন বাল্ক ক্যারিয়ার পাইক্সিস ওশানে। বর্তমানে জাহাজটি পরিচালনা করছে মার্কিন ফুড করপোরেশন কারগিল। বিএআর, মিৎসুবিশি ও কারগিল ছাড়াও এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে ইয়ারা মেরিন টেকনোলজিস।
সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী পাইক্সিস ওশান ৭৫১ ফুট দীর্ঘ। এর ধারণক্ষমতা ৮০ হাজার ৯৬২ ডিডব্লিউটি। পাঁচ বছর বয়সী এই বাল্ক ক্যারিয়ারে স্থাপন করা হবে দুটি উইন্ডউইংস, যেগুলোর নকশা করেছে বিএআর টেকনোলজিস ও সরবরাহ করেছে ইয়ারা মেরিন।
এর আগে কয়েকটি রেসিং সেইলবোটে বিএআরের নকশাকৃত উইন্ডউইং ব্যবহার করা হলেও বাণিজ্যিক জাহাজে এখন পর্যন্ত এর ব্যবহার দেখা যায়নি। উইন্ডউইংকে বলা যায় নতুন প্রজন্মের পাল, যেটি বাতাস থেকে শক্তি সঞ্চয় করে জাহাজের প্রপালশন সিস্টেমে সরবরাহ করবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় করা যাবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয় বাড়ানো ও আন্তর্জাতিক শিপিংয়ে নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ২০১৯ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে কারগিল এবং মিৎসুবিশি করপোরেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমসি শিপিং সিঙ্গাপুর। পরবর্তীতে গত বছর ইয়ারা ও বিএআর এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়।