উত্তর মহাসাগরে দ্রুতগতিতে গলছে বরফ। পরিবেশগত দিক থেকে এটি অবশ্যই উদ্বেগজনক বিষয়। তবে একই সঙ্গে এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহন খাতে নতুন এক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্কটিকের বরফ গলার ফলে নতুন একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুট তৈরি হতে পারে, যা শিপিং খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের সাগর-মহাসাগরগুলোও উষ্ণ হয়ে পড়ছে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে উত্তর মহাসাগরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশবাদীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন মডেল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আর্কটিকের এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেগুলো এক সময় বছরজুড়ে বরফে ঢাকা থাকত, সেগুলো এখন এত দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে যে শিগগিরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যখন বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে বরফ থাকবে না।
আর্কটিকের এই পরিবর্তনের বাস্তুতান্ত্রিক ফলাফল হবে ভয়ানক। এতে করে অসংখ্য প্রজাতির সামুদ্রিক জীব অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে, যেগুলোর টিকে থাকার জন্য পানির তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকা অত্যাবশ্যকীয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানী ও ইউনিভার্সিটি অব মেইন স্কুল অব ল’-এর আইন বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরফ গলার বিষয়টি কোনোভাবেই উত্তর মহাসাগরের জন্য ভালো খবর হতে পারে না। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, বরফ গলা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই পরিবর্তনের ফলে প্রতি বছর স্বল্প সময়ের জন্য নতুন মেরিটাইম ট্রেড রুট তৈরি হবে, যেটি ব্যবহারের ফলে জাহাজগুলোর জ্বালানি ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে নিঃসরণের পরিমাণও কিছুটা কমবে। পাশাপাশি এই জলপথটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন নর্দার্ন সি রুটকে বাইপাস করতে সহায়ক হবে। ফলে আর্কটিক অঞ্চলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ অনেকখানি কমবে।
২০৬৫ সাল নাগাদ উত্তর মহাসাগরে এই পরিবর্তন দেখা যাবে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।