রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি)। বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সংগঠনের প্রকাশিত ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এমন উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।
আইসিসিবি উল্লেখ করে, উন্নত দেশগুলো কয়েক দশকের মধ্যে রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশগুলো, যা ভোক্তার চাহিদা কমিয়ে দেবে। এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়, কারণ বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রপ্তানি গন্তব্য এসব দেশ। বাংলাদেশ এরই মধ্যে যুদ্ধের প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। রাশিয়া ও ইউক্রেনে রপ্তানি হ্রাসের পাশাপাশি প্রধানত তেল ও খাদ্যের জন্য আমদানি বিল বেড়ে যাওয়ায় এটা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের পর তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়েছে। এটি চলতি বছর আরো বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহের সংকট বিশ্বকে ১৯৭০-এর তেল সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধিকে স্থবির করে দিয়েছিল ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেও।
যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আইসিসিবি সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করে, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) তথ্যানুসারে প্রায় ২৭ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়েছে। ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের (এফএও) অনুমান অনুযায়ী যুদ্ধের প্রভাবে আরো ১ কোটি ১০ লাখ-১ কোটি ৯০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষ নতুন যোগ হতে পারে।
এফএওর মতে, সারের মতো খামারের ইনপুটগুলোর বর্ধিত খরচ কৃষকদের উৎপাদন সম্প্রসারণ থেকে বিরত রাখতে পারে ও রেকর্ড আমদানি বিলের সম্মুখীন দরিদ্র দেশগুলোয় খাদ্যনিরাপত্তা আরও খারাপ করতে পারে। ফলস্বরূপ সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং এশিয়ার কিছু দেশ, যেমন বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়ায়ও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবতার দুর্ভোগ, লাখ লাখ জীবন এবং ক্রমাগত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতার জন্য বৈশ্বিক আধিপত্যের লড়াই ত্যাগ করার জন্য পরাশক্তিদের প্রতি আহ্বান জানায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স এবং ১০০টিরও বেশি দেশে এর ৪ কোটি ৫০ লাখ সদস্য।