খাদ্যশস্য রপ্তানির বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি সই

পেছনে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু ও ইউক্রেনের অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী ওলেকসান্দার কুবরাকভ। সামনে উপবিষ্ট জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও তুর্কী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: বিবিসি

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানির সুযোগ করে দিতে দেশটি ও রাশিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য মধ্যস্থতা করছিল তুরস্ক ও জাতিসংঘ। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার (২২ জুলাই) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন ছাড়াও জাতিসংঘ ও তুরস্ক এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

ইস্তাম্বুলে গিয়ে রাশিয়ার হয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী ওলেকসান্দার কুবরাকভ। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও তুর্কী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির আওতায় রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে তাদের অবরোধ শিথিল করবে, যেন ইউক্রেন থেকে জাহাজে করে খাদ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়। তুরস্ক বলছে, এই চুক্তির ফলে শুধু ইউক্রেন নয়, বরং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রাশিয়ার খাদ্য রপ্তানিও সহজ হবে।

পাঁচ মাস আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পরপরই মস্কো ইউক্রেন উপকূলের কাছে কৃষ্ণসাগরে নৌ-অবরোধ দেশটি থেকে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে সেখান থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিকভাবে খাদ্য সংকট তৈরি হয়। ইউক্রেন জুড়ে বিভিন্ন গুদামে প্রচুর পরিমােেণ খাদ্যশস্য মাসের পর মাস রপ্তানির জন্য পড়ে রয়েছে। কেবল কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওডেসা বন্দরের গুদামেই এখন দুই কোটি টনের মত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। চুক্তির ফলে এগুলো এখন আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে, সেখানে রপ্তানি করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here