এশিয়ায় এলএনজির চাহিদায় মন্দা, দাম ঊর্ধ্বমুখী

এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা নিম্নমুখী রয়েছে। অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী চাহিদা কম থাকলে মূল্যও কমে যাওয়ার কথা। তবে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ইউরোপে সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস কেনার চেষ্টা করছে। এর ফলে স্পট মার্কেটে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যার এলএনজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক প্রাক্কলন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ এলএনজি ক্রেতা চীন জুলাইয়ে ৫১ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি কিনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে হিসাবে আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। আর জানুয়ারি-জুলাই মেয়াদে দেশটি মোট ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৮৮ লাখ ৯০ হাজার টন কম।

গত বছর জাপানকে পেছনে ফেলে এলএনজি আমদানিতে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছিল চীন। কেপলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে জাপান ৬৭ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা কিছুটা বেড়েছে। তবে বছরের প্রথম সাত মাসে আমদানির পরিমাণ বছরওয়ারি ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪৫ লাখ টন।

এশিয়ার তৃতীয় বৃহৎ এলএনজি আমদানিকারক দেশ দক্ষিণ কোরিয়া বছরের প্রথম সাত মাসে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং গত মাসে ২০ শতাংশ কম এলএনজি কিনেছে। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভারতের আমদানি জুলাইয়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এছাড়া সাত মাসে আমদানি কমে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টনে নেমেছে।

কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুলাই মেয়াদে এশিয়া অঞ্চলে সব মিলিয়ে আমদানি হয়েছে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার টন এলএনজি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ কম।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকেই বাড়তে শুরু করে এলএনজির দাম। ৪ মার্চ স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি বিক্রি হয় ৪০ ডলার ৫০ সেন্টে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ দর ছিল। তবে সম্প্রতি সেই রেকর্ড ভেঙে গেছে। ২৯ জুলাই প্রতি এমএমবিটিইউর স্পট মূল্য ছিল ৪২ ডলার ৫০ সেন্ট।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এশিয়ার বাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ৪৮ ডলার ৩০ সেন্টে উঠেছিল, যা গত বছরের সর্বোচ্চ দর ছিল। এখন পর্যন্ত দাম সেই পর্যায়ে না উঠলেও এলএনজির মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে সেই সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দেওয়া যাচ্ছে না। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে জ্বালানিটির দাম বছরওয়ারি ১৬০ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১ হাজার ৪০০ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here