চলতি বছর শুরু হয়েছিল শিডিউল রিলায়েবিলিটি সূচকের সর্বনিম্ন পয়েন্ট নিয়ে। তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে জাহাজ চলাচলের সময়ানুবর্তিতা ফিরে আসা ও সাপ্লাই চেইনের স্থবিরতা কেটে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সি-ইন্টেলিজেন্সের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুনে গ্লোবাল শিডিউল রিলায়েবিলিটি ইনডেক্স বছরওয়ারি ৩ দশমিক ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে এই প্রথম সূচকটিতে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি দেখা গেল।
প্রথমে করোনা মহামারিজনিত মন্দা, পরে ভোক্তাচাহিদায় হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি- এই দুইয়ের প্রভাবে গত দুই বছর ধরে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। গত মার্চের শেষের দিকে বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দর সাংহাইয়ে লকডাউন আরোপের ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়। এর ওপর আবার কিছু বন্দরে চলে হ্যান্ডলিং ও পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট। সবকিছু মিলিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয় সমুদ্র পরিবহন খাতে।
তবে জুনে শিডিউল রিলায়েবিলিটি সূচকের এই উত্থান নিশ্চিতভাবেই খাতসংশ্লিষ্টদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির বাতাস বয়ে আনবে। উন্নতির লক্ষণ অবশ্য গত ফেব্রুয়ারি থেকেই দেখা যাচ্ছিল। তবে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি এই প্রথম দেখা গেল।
গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে শিডিউল রিলায়েবিলিটি পতনমুখী হয়। বছরের শেষের দিকে দেখা যায়, বৈশ্বিক বহরের দুই-তৃতীয়াংশ জাহাজ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে চলাচল করছে।
শিডিউল রিলায়েবিলিটি ইনডেক্সের মান ৪০ পয়েন্ট সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালের মার্চে। তবে এই সূচকের ঐতিহাসিক গড় মান ৭০ পয়েন্টের চেয়ে তা এখনো অনেক কম রয়েছে।
বিশ্বের ৩৪টি ভিন্ন রুট ও ৬০টির বেশি ক্যারিয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সূচক তৈরি করেছে সি-ইন্টেলিজেন্স।