মানবিক করিডোর দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি ১০ লাখ টন ছাড়িয়েছে

ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ বা কৃষ্ণ সাগর দিয়ে খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ চলাচলের মানবিক করিডোর চালুর পর এখন পর্যন্ত ১০ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য নিয়ে ইউক্রেন ছেড়েছে ১০৩টি জাহাজ। তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ২২ জুলাই তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় খাদ্যশস্য পরিবহনের সুযোগ দিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিটির আওতায় রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে তাদের অবরোধ শিথিল করবে, যেন ইউক্রেন থেকে জাহাজে করে খাদ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়। তুরস্ক বলছে, এই চুক্তির ফলে শুধু ইউক্রেন নয়, বরং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রাশিয়ার খাদ্য রপ্তানিও সহজ হবে।

চুক্তির অধীনে ১ আগস্ট প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে ২৬ হাজার টন ভুট্টা বোঝাই করে লেবাননের পথে যাত্রা করে রাজোনি নামের সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী একটি জাহাজ।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণ সাগরের উপকূলীয় বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছিল রুশ বাহিনী। এরপর ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে দেশটির সাইলোগুলোয় বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের মজুদ জমা হয়।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক গম সরবরাহে রাশিয়া ও ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল এই দুই দেশের খাদ্যশস্য রপ্তানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

গত এক মাসের এই রপ্তানির ফলে ইউক্রেনের সাইলোগুলোর ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। কারণ পুরনো মৌসুমের মজুদই এখনো শেষ হয়নি। তার ওপর নতুন মৌসুমের ফসল সংরক্ষণের চাপ রয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখনো ইউক্রেনের সাইলোগুলোয় আগের মৌসুমের বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য পড়ে রয়েছে। এগুলো দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা করা দরকার। এছাড়া ইউক্রেন থেকে অ্যামোনিয়াসহ অন্যান্য সার রপ্তানির সুযোগ করে দিতেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বা ন জানিয়েছে জাতিসংঘ। এতে করে বিশ্বজুড়ে কৃষকরা আগামী বছরের জন্য ন্যায্যমূল্যে সার কেনার সুযোগ পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here