এক্সপ্রেস পার্ল বিপর্যয়
রাসায়নিকভর্তি কনটেইনার জাহাজ এক্সপ্রেস পার্ল ডুবে যাওয়ার ১৪ মাসের বেশি সময় পরও এখনো শ্রীলংকার কলম্বো উপকূলে ক্ষতিকর রাসায়নিক, তেল ও প্লাস্টিক পেলেট পরিষ্কারের কাজ চলছে। এই কাজ পুরোপুরি শেষ হতে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে সেখানে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় মৎস্যজীবীরা তাদের জীবিকা হারিয়েছে। তাদের এই ক্ষতি পূষিয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে শ্রীলংকা সরকারকে তৃতীয় দফায় প্রায় ২৫ লাখ ডলার অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দিয়েছে এক্সপ্রেস পার্লের বীমা কোম্পানি।
শ্রীলংকার মৎস্যসম্পদ মন্ত্রী ডগলাস দেবানন্দ জানিয়েছেন, তারা বীমা কোম্পানির কাছ থেকে এই দফায় যে অংকের ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, তা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বীমা কোম্পানি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারকে দিয়েছে প্রায় ৩৬ লাখ ডলার। এই অর্থ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় চারটি অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৫ হাজার জেলের মধ্যে বণ্টন করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
২০২১ সালের মে মাসে অগ্নিদুর্ঘটনার শিকার হয় এক্সপ্রেস পার্ল। ৪৬ ধরনের রাসায়নিক ছিল সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সুপার ইকো ২৭০০-ক্লাসের জাহাজটিতে।
২০ মে কলম্বোর নিকটবর্তী জলসীমায় এক্সপ্রেস পার্লে আগুনের সূত্রপাত হয়। ২৭ মে নাগাদ আগুন পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জ্বলার পর জাহাজটি সাগরে ডুবে যায়। মূল উদ্বেগের শুরু তখনই। এক্সপ্রেস পার্লের এই দুর্ঘটনাকে বলা হচ্ছে শ্রীলংকার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক বিপর্যয়, যার প্রভাব দেশটিকে কয়েক দশক ধরে বহন করতে হতে পারে।
জাহাজটির কনটেইনারগুলোয় যেসব রাসায়নিক পরিবহন করা হচ্ছিল, তার কিছু ছিল পরিবেশের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর কিছু কনটেইনার থেকে রাসায়নিক নিঃসৃত হয়ে সাগরের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই রাসায়নিকের কারণে সাগরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া জাহাজে ছিল কয়েকশ টন প্লাস্টিক পেলেট, যেগুলো ছড়িয়ে পড়ে সৈকত পর্যন্ত ভেসে গিয়েছিল। প্লাস্টিক পণ্য তৈরির এই উপাদানের কারণেও সামুদ্রিক পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছিল।
পরিবেশগত প্রভাব ছাড়াও এই দুর্ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জীবিকার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার কারণে জেলেরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত সেখানে মাছ ধরতে পারেননি। ফলে অনেক পরিবারকেই অনটনের মধ্যে পড়তে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, স্থানীয় জেলেদের আরও কয়েক বছর ভুগতে হবে এই বিপর্যয়ের কারণে।