সুয়েজ খালে আবারও জাহাজ আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকালে খালের দক্ষিণমুখী লেনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে আফরাম্যাক্স ট্যাংকার অ্যাফিনিটি ফাইভ। এরপর জাহাজটি খালের নেভিগেশনাল চ্যানেলে আড়াআড়িভাবে আটকা পড়ে। এতে চ্যানেলটি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অবশ্য খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় ট্যাংকারটিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পাঁচটি টাগবোট এই অভিযানে অংশ নেয়। অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ডেটা থেকে দেখা গেছে, ট্যাংকারটিকে উদ্ধারকালীন সময়ে অন্তত ছয়টি জাহাজ এর পেছনে আটকা পড়েছে।
১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ ডিডব্লিউটি সক্ষমতার অ্যাফিনিটি ফাইভ সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত। ছয় বছর আগে এটি বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে। পর্তুগালে তেল খালাস করে এটি সৌদি আরবে ফিরছিল। সুয়েজ খাল অতিক্রমের সময় ৮২৮ ফুট দীর্ঘ ট্যাংকারটিতে কেবল ব্যালাস্ট ওয়াটার ছিল। বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৭ ফুট ড্রাফট নিয়ে জাহাজটি চলছে।

অ্যাফিনিটি ফাইভ যেখানে আটকা পড়েছে, সেটি গত বছর এভার গিভেন আটকা পড়ার জায়গা থেকে খুব বেশি দূরে নয়। ২০২১ সালের ২৩ মার্চ লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার সময় সুয়েজ খালে আড়াআড়িভাবে আটকা পড়ে এভারগ্রিন মেরিনের মালিকানাধীন ২০ হাজার টিইইউ কনটেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ এভার গিভেন। ৪০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি ছয় দিন আটকে থাকার পর মুক্ত হয়। সুয়েজ খাল অতিক্রমের সময় এতে ১৮ হাজার ৩০০ কনটেইনার ছিল। এভার গিভেন আটকা পড়ায় সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল, যা সাপ্লাই চেইনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
খালে আটকা পড়া অবস্থা থেকে ছয় দিনে মুক্ত হলেও এভার গিভেন নাটক চলেছিল আরও মাস তিনেক। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, জাহাজটি আটকে যাওয়ায় দৈনিক এক থেকে দেড় কোটি ডলার রাজস্ব হারাতে হয়েছে তাদের। এ ঘটনায় জাহাজটির মালিকপক্ষের কাছে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মিশর সরকার। প্রায় তিন মাস এ নিয়ে মালিকপক্ষ, বিমা কোম্পানি ও খাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে দর কষাকষি হয়। অবশেষ একটি চুক্তি সম্পাদিত হলে ৭ জুলাই মিশর থেকে ছাড়া পায় এভার গিভেন।
ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের সংযোগকারী সুয়েজ খাল মিশরের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। মোট বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।