দেশে নির্মিত প্রথম সাবমেরিন আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পেল ব্রাজিল। সম্প্রতি দেশটির নৌবাহিনীতে রিয়াচুয়েলো নামের ডুবোজাহাজটির কমিশনিং সম্পন্ন করা হয়েছে। সাবমেরিনটি নির্মাণ করেছে ব্রাজিলের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা আইসিএন। আর এই কাজে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে ফ্রান্সের নেভাল গ্রুপ।
ব্রাজিল সরকার প্রো-সাব প্রকল্পের অধীনে দেশটির নৌবাহিনীর জন্য চারটি স্করপিন-ক্লাস সাবমেরিন নির্মাণ করছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হচ্ছে ৯৯০ কোটি ডলার। রিয়াচুয়েলো হলো এই চারটি সাবমেরিনের প্রথমটি। ৪ হাজার মাইলের বেশি উপকূলীয় তটরেখা রয়েছে ব্রাজিলের। বিশাল এই অঞ্চলের সমুদ্র সার্বভৌমত্ব রক্ষায় স্করপিন-ক্লাস সাবমেরিন চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিয়াচুয়েলো প্রথম পানিতে ভাসানো হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। এরপর সাবমেরিনটিকে বেশ কয়েক দফার সি ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। রিয়াচুয়েলো ২০২০ সালেই ব্রাজিলের নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে এতে বিলম্ব হয়েছে।
স্করপিন-ক্লাসের বাকি তিনটি সাবমেরিনের মধ্যে দ্বিতীয়টি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পানিতে ভাসানো হয়েছে। চলতি মাসে এটির সি ট্রায়াল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হুমাইতা নামের সাবমেরিনটি ২০২৩ সালে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিকল্পনা অনুসারে, বাকি দুটি সাবমেরিন ২০২৯ সালে বুঝে পাবে নৌবাহিনী।
রিয়াচুয়েলোর নকশা করা হয়েছে ফ্রান্সের স্করপিন-ক্লাসের সাবমেরিনের অনুরূপ করে। তবে ব্রাজিলীয় সংস্করণটি তুলনামূলকভাবে দৈর্ঘ্যে খানিকটা বেশি। রিয়াচুয়েলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩২ ফুট, যা ফরাসি সাবমেরিনগুলোর চেয়ে প্রায় ৩০ ফুট বেশি। ব্রাজিলের স্করপিন-ক্লাস সাবমেরিনগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে পারবে। এতে ক্রু থাকবেন সর্বোচ্চ ৩৫ জন। ২০০০ টনের একেকটি সাবমেরিনে ছয়টি উইপন লঞ্চিং টিউব রয়েছে। টর্পেডো, মিসাইলসহ ১৮টি অস্ত্র থাকবে এই সাবমেরিনে।