আধুনিক সুবিধা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে নির্মিত হবে বে টার্মিনাল

বে টার্মিনালের খসড়া মাস্টার প্ল্যানের উপর স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভা

দেশের অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে ক্রমবর্ধমান আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ চাহিদা, আধুনিক সুবিধা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে নির্মাণ করা হবে চট্টগ্রাম বন্দরের মেগা প্রকল্প বে টার্মিনাল। বে টার্মিনালের খসড়া মাস্টার প্ল্যানের বিষয়ে স্টেক হোল্ডারদের সাথে মতবিনিময়কালে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান এ তথ্য জানান।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বন্দরের শহীদ মো. ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বে টার্মিনালের মাস্টার প্ল্যানের বিষয়ে বন্দরের স্টেক হোল্ডাররা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মতামত দেন। এর আগে কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান কুনহুয়া-ডিওয়াইয়ের টিম লিডার পার্ক জং জিন খসড়া মাস্টার প্ল্যান উপস্থাপন করেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরের গড়ে ১৩ শতাংশের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। ভবিষ্যৎ চাহিদাকে সামনে রেখে সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আমরা বে টার্মিনাল নির্মাণ করতে যাচ্ছি। চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান কনটেইনার ধারণ ক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫৮০ টিইইউ। বে টার্মিনালের কনটেইনার ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টিইইউ। যা চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান সক্ষমতার প্রায় তিনগুণ।

তিনি আরও বলেন, বন্দরের ইয়ার্ড থেকে এলসিএল কনটেইনার থেকে পণ্য খালাস করে ডেলিভারি দিতে হয়। ফলে অনেকগুলো ট্রাক-কাভার্ডভ্যান বন্দরের অভ্যন্তরে নিয়মিত চলাচল করে। এতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমরা ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল একেবারে আলাদা করে নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি বে টার্মিনালে। যাতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটে।

সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, সড়ক ও যোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশন, বিআইডব্লিউটিসি, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা মতামত দেন।

মাস্টার প্ল্যানের উপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি জানান, বে টার্মিনালে যাতায়াতকারী যানবাহনের জন্য যাতে নগর পরিবহন ও রিং রোডের যানবাহন চলাচলে অসুবিধা না হয় সেজন্য আলাদা লেন তৈরি করা হবে। যেসব স্থানে ফ্লাইওভার প্রয়োজন, সেসব স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে মাস্টার প্ল্যানে। এ ছাড়া রেল সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রস্তাব মাস্টার প্ল্যানে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।

বে টার্মিনালের পার্শ্ববর্তী এলাকার পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যান জানান, নগরের পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রেখেই বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এজন্য প্রকল্প এলাকায় ৯৩ ফুট চওড়া খাল তৈরি করা হবে। যা দিয়ে অনায়াসেই পার্শ্ববর্তী এলাকার পানি সমুদ্রে যেতে পারবে।

বিপজ্জনক পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেক হোল্ডারদের মাস্টার প্ল্যানের কপি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বন্দর চেয়ারম্যান সভার পরেও লিখিত আকারে প্রস্তাবনা ও মতামত জানানোর সুযোগ আছে বলে জানান। এ সময় তিনি সবার মতামত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলেও নিশ্চিত করেন।

সভায় বন্দরের পর্ষদ সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, সদস্য (অর্থ) মো. কামরুল আমিন, সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান কুনহুয়া-ডিওয়াই এর টিম লিডার পার্ক জং জিন ও পোর্ট প্ল্যানার কিমসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বে টার্মিনাল প্রকল্পে তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে একটি টার্মিনাল বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here