জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগস্বল্পতা শিল্পোৎপাদনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে

খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে জাতিসংঘ ও উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। এই লক্ষ্য পূরণে জোর দেওয়া হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের ওপর। বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন খাতে।

জ্বালানি রূপান্তরের এই প্রচেষ্টায় জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির এখন পর্যন্ত যা উৎপাদন, তা বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। এই পরিস্থিতি শিল্পোৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত বিপর্যয় ডেকে আনতে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অব্যাহতভাবে কমছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত যেসব কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, তা টেকসই কোনো সমাধান নয়। বরং পরিস্থিতি ক্রমেই বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে।

গত বছর দুয়েক ধরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার বেশ অস্থিতিশীল রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি আরও নেতিবাচক দিকে এগিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রতি মাসেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছে রপ্তানিকারক ও মিত্র দেশগুলো জোট ওপেক প্লাস। তবে উত্তোলন বাড়লেও জোটটি চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই ব্যর্থতার পেছনে বিনিয়োগস্বল্পতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় নাইজেরিয়ার কথা। ওপেকের সদস্য দেশটি সম্প্রতি জ্বালানি তেল উত্তোলন তলানিতে নেমেছে। মূলত বিনিয়োগস্বল্পতা ও পাইপলাইন থেকে তেল চুরির কারণে দেশটি প্রত্যাশিত মাত্রায় সরবরাহ বাড়াতে পারছে না। পূরণ করতে পারছে না জোটের বেঁধে দেওয়া কোটা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here