ঘূর্ণিঝড় চিত্রাংয়ের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে বন্দরের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান। বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৫৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের প্রেক্ষিতে বন্দর অ্যালার্ট-৩ জারি করেছে।
সতর্কতার অংশ হিসেবে বন্দরের জেটি থেকে সকল কনটেইনার ও কার্গো জাহাজ বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, কর্ণফুলী চ্যানেলে অবস্থানরত লাইটার জাহাজগুলো উজানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্দরের সকল কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কনটেইনার স্ট্যাকিংয়ে (এক কনটেইনারের উপর একাধিক কনটেইনার রাখা) উচ্চতা কমানো ও বন্দরের নিজস্ব নৌযানগুলো নিরাপদ স্থানে নোঙর করা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র যেসব প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়কালীন বন্দরের কার্যক্রম সমন্বয়ে চারটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে দায়িত্ব বন্টন করেছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা ও বন্দর পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে চালুর ব্যবস্থাও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।