চলতি সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে ভারতীয় চালের রপ্তানি মূল্য। মূলত সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং রুপির বিনিময় মূল্য বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়ছে। এদিকে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে দেশে আমদানি চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়টিও বিশ্বের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক দেশটির রপ্তানি মূল্য বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে ভারত প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ জাতের চাল ৩৭৪-৩৮২ ডলারে রপ্তানি করেছে। কিন্তু চলতি সপ্তাহে এ চালের রপ্তানি মূল্য বেড়ে টনপ্রতি ৩৭৫-৩৮৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালের ঊর্ধ্বমুখী দামে কৃষক অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন। ফলে তারা চাল উৎপাদনে বিনিয়োগও বাড়াচ্ছেন। এ কারণে শীত ও বসন্তকালীন উৎপাদন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের চাল রপ্তানি অব্যাহতভাবে কমছে। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড পরিমাণ চাল রপ্তানি করেছিল দেশটি। তবে এ বছর রপ্তানি কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। সম্প্রতি এ পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)।
গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক শীর্ষক প্রতিবেদনে এফএএস জানায়, ২০২২-২৩ মৌসুমে ভারত ১ কোটি ৭০ লাখ টন চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। গত বছর রপ্তানি হয়েছিল ২ কোটি ১৫ লাখ টন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার ভাঙা চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় অন্যান্য চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কও আরোপ করা হয়। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ দেখা দেয় আমদানি ও রপ্তানিকারক পর্যায়ে। ক্রেতারা অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধে অস্বীকৃতি জানালে বন্দরগুলোয় আটকা পড়ে অন্তত ১০ লাখ টন চাল।
সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানের তথ্যানুসারে, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শেষে চালের মজুদ ৩ কোটি ৫০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুম শেষে চালের মজুদ কমে ৩ কোটি ২০ লাখ টনে দাঁড়াবে। রপ্তানি কমলেও স্থানীয় ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে মজুদ নিম্নমুখী হয়ে উঠছে।