টানা দুই মাস ৯ শতাংশের ওপরে থাকার পর গত অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। গত মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। গত সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১০ শতাংশ এবং আগস্টে ছিল ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অক্টোবরের মূল্যস্ফীতির হার নিয়ে আমরা যে ধারণা করেছিলাম তা বাস্তব হয়েছে। অক্টোবরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ১০ শতাংশ। আর খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা আগের মাসে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ ছিল। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯২ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশে, আগের মাসে যা ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ ছিল।
দেশে মজুরি বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি কমেছে জানিয়ে এমএ মান্নান বলেন, মূল্যস্ফীতি কমার বিপরীতে বেড়েছে মজুরি হার। অক্টোবরে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে মজুরি হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশে। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ, শিল্প খাতে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়েছে মজুরি হার। এটা খুবই ভালো দিক। নিম্ন আয়ের লোকেরা এ কারণে স্বস্তিতে ছিল।
একনেক বৈঠকে সাতটি প্রকল্প অনুমোদনের কথা জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, প্রকল্পের জন্য ৩ হাজার ৯৮১ কোটি ৯০ লাখ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে আসবে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। আর ২৬৭ কোটি টাকা আসবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩২২ কোটি টাকা পাওয়া যাবে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে।
অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর একটি চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ ও টেকনাফ অংশের জেটিসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৪-এর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামোসহ অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৫-এর সার্ভিস প্যাসেজগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য উন্নয়নকাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।